বাঘার জীবনের শেষ ইচ্ছে মৃত্যুর পুর্বে বীর মুক্তিযুদ্ধার সম্মান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়া নুর ইসলাম নুরুল ওরফে বাঘার শেষ ইচ্ছে মৃত্যুর পুর্বেই বীর মুক্তিযুদ্ধার সম্মান। তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের মৃত জবেদ আলী মড়লে সন্তান।

১৯৭১সালের ৭মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের ভাষন শোনার পর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া ৫নং সাব সেক্টরে যান। সেখান থেকে তাকে ভারতে প্রশিক্ষনে ইকওয়ান ট্রেনিং সেন্টারে রাশিয়ান এলএমজি ব্যবহারের প্রশিক্ষন নেন। প্রশিক্ষন শেষে বরছড়া ৫নং সাব সেক্টরে ফিরে সেক্টর কমান্ডার সুঞ্জিত সেন গুপ্ত,মীর শওকত,মেজর ডিন(মোসলেম উদ্দিন)এর অধিনে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযুদ্ধা মোজাহিদ উদ্দিন,সাবেক কমান্ডার রফিকুল ইসলাম,রৌজ আলীসহ মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে তাহিরপুরের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন। প্রতিটি সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার,রাজাকার,আলবদর বাহিনীর বিরোদ্ধে বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের পরাজিত করা ও যুদ্ধে তার মত সাহস আর শক্তির জন্য তার সহযোদ্ধারা তাকে বাঘা উপাধি দিয়েছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন খন্দকার মোস্তাকের নির্দেশে সারাদেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্মম নির্যাতন শুরু হয়। এ সময় নিজের জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে ছদ্মবেশে ঢাকায় গিয়ে রিকসা চালানোসহ দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। সেখানেও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের উপর মোস্তাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতন অত্যাচার দেখতে পেয়ে জীবন বাঁচাতে চলে যাই ভারতে। দীর্ঘ কয়েকবছর নানান কষ্টে প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১৬সালের জানুয়ারিতে পা রাখেন দেশের মাটিতে। দেশে আসার পর বছরের পর বছর বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও অনেক দেন দরবার আবেদন নিবেদন করে মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি পেতে ব্যর্থ হয়ে এখন নিশ্চুপ হয়ে আছেন। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক বলেছেন,১৯৭১সালে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অন্তত একটি প্রমান আর তিনজন মুক্তিযুদ্ধার সাক্ষী পাওয়া গেলে সেই মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তুর্ভুক্ত করা হবে। এ ঘোষনারপর থেকে মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে অর্ন্তুভুক্ত হওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখছেন নুর ইসলাম নুরুল ওরফে বাঘা।

তাহিরপুর উপজেলার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযুদ্ধা মোজাহিদ উদ্দিন,সাবেক কমান্ডার রফিকুল ইসলাম,রৌজ আলীসহ অনেক মুক্তিযুদ্ধা জানান,নুর ইসলাম নুরুল আমার সহযোদ্ধা এক সাথে যুদ্ধ করেছি। তাকে সবাই বাঘা নামেই চেনে। তাকে মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া দাবী জানাই।

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান,নূর ইসলাম ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সে বিষয়ে শুধু আমার না কারোই কোন সন্দেহ নেই। তাকে স্বীকৃতি দেয়াটা খুবই প্রয়োজন।

মোঃ নূর ইসলাম নূরুল ক্ষোবের সাথে জানান,প্রতক্ষ্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও আমি স্বাধীনতার ৪৯বছরেও পরাধিন রয়ে গেছি। সবাই স্বীকৃতি দিলেও বার বার আবেদন করেও বীর মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি পাচ্ছি না। আমারো অনেক বয়স হয়েছে হাঁটাচলা করতেই এখন কষ্ট হয়। মানুষের সহযোগিতা দিয়ে কোনোমতে দিন চলে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আর্কশন করে বলেন,আপনার বাবার ডাকেই যুদ্ধে গিয়েছি। আমার শেষ ইচ্ছা আপনি পূরণ করবেন। জীবনের শেষকালে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিটুকু পেলে মরেও শান্তি পাব।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)পদ্মাসন সিংহ বলেন,সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কমিটির সভায় উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধা হাত তুলে নূর ইসলাম নুরুলের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে প্রেরণ করে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বাচ্চ চেষ্টা করব।