বাঙালি অসহিষ্ণু, লাইন দেখলেই ভাঙতে চায়: ইসি রফিকুল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

বাঙালি জাতিকে ‘অসহিষ্ণু’ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘(বাঙালি) যখনই লাইন দেখবে তখনই ভাঙতে চাইবে’।

নিজের ব্যক্তি জীবনের গাড়ির উদাহরণ টেনে এই কমিশনার বলেন, ‘আমরা কোনো তাড়া নাই তারপরও উল্টো দিক দিয়ে গাড়ি দেবে টান। এই অভ্যাসের কারণেই লাইনটা ঠিক থাকে না। লাইন নিয়ে মারামারি হবে দায়টা পড়বে আপনার ঘাড়ে’।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) প্রোগ্রামিং দিয়ে কাউকে হেল্প (সাহায্য) করা সম্ভব না মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুথ দখল করে জাল ভোট দেওয়া সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘ভোটর এসে আঙুলের ছাপ দিয়ে ব্যালট পেপার পেল; ইস্যু হলো আরেকজন দৌড় দিয়ে ঢুকে তার ভোটটা দিয়ে দিল। এ রকম যদি হয় তাহলে কিন্তু জাল ভোট দেওয়া সম্ভব’।

শুক্রবার রাজধানীর আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং অফিসার ,সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার) প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

উপস্থিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসি রফিকুল বলেন, ‘একদিনের জন্য আপনি হচ্ছেন সেই কেন্দ্রের রাজা’।

তিনি বলেন, ‘আপনি যখন রাজা হয়েছেন তখন আপনার প্রথম দায়িত্বটা হচ্ছে আপনার রাজত্বটাকে চিহ্নিত করা। যেসব স্কুলে সীমানা প্রাচীর নেই সেখানে অন্তত একটা বাঁশ দিয়ে হলেও সীমানা প্রাচীর নির্ধারণ করার আহ্বান জানাই।’

তিনি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আপনার সঙ্গেও কিছু লোক থাকবে যারা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে তাদের (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) দায়িত্ব দেওয়া যাতে করে কোনো অবস্থায় অনুমতিবিহীন কেউ আপনার সীমানায় রাজত্বে ঢুকতে না পারে।’

প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রটেক্ট করতে যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপনাকে আমি দায়ী করব।

তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে আপনার রাজত্বটাকে রক্ষা করা ঠিক একইভাবে রুমটা হচ্ছে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের তালুক কেন্দ্র। এই তালুকটাকে রক্ষা করা’।

চ্ট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়ার হারে হতাশা প্রকাশ করে এই কমিশনার বলেন, ‘এ রকম ঢাকা শহরে হওয়ার কথা না। ইভিএমের মাধ্যমে ইলেকশন হলে এই যন্ত্রটা যে সব তা কিন্তু না। ভোট চলাকালীন ততটুকু ভোটার ততটুকু সাংবাদিক, ততটুকু পর্যবেক্ষক ঢুকতে দিন হবে যাতে আপনার কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে’।

সরস্বতী পূজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনোরকম আঘাত দেওয়ার জন্য সিটি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশন বিপদের মধ্যে আছে মন্তব্য করে এই কমিশনার বলেন, আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।