বাজেট উচ্চাভিলাসী নয়: ড. মইনুল

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২৫:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

সরকার তার অঙ্গীকার অনুসারে কাজ করছে কি না, তার চিত্র পাওয়া যায় বাজেটে। তাই রাষ্ট্রের গতি-প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ বুঝতে এবং সরকার তার অঙ্গীকার রক্ষা করছে কি না তা বুঝতে হলে প্রত্যেক সচেতন নাগরিকেরই রাষ্ট্রীয় বাজেট পর্যালোচনা করা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থনীতি রাজনীতির বাইরে নয়।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে (ইডিইউ) বাংলাদেশ জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মু. সিকান্দার খান।

স্কুল অব বিজনেসের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মুহাম্মদ রকিবুল কবিরের সভাপতিত্বে আজ বুধবার ২৬ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এবারের বাজেট এর আগের বছরগুলোর বাজেটের ধারাবাহিকতা মাত্র। সবাই এ বাজেটকে উচ্চাভিলাসী বললেও, অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই উচ্চাভিলাসী নয়।

তবে, যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। ফলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। তবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সৃষ্টিতে সরকারের অগ্রাধিকার ও গতিশীলতার সুফল জনগণ পেয়েছে।

বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি হলেও, কর জিডিপি এখনো এ অঞ্চলের সবচেয়ে কম। কর জিডিপি ও রাজস্ব জিডিপির অনুপাত গত দশ বছরে আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিলো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. মইনুল আরো বলেন, এবারের বাজেটেও আয়বৈষম্য কমানোর কোনো তাগিদ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে বাজেটে মধ্যবিত্ত জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, বরং উচ্চবিত্ত গোষ্ঠীর জন্য রয়েছে নানা রকম সুবিধা। যা মোটেই কাম্য নয়।

তিনি এ বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বাজেটের পরিবর্তে ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এসময় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে সরকারের প্রণোদনা ও পুঁজিবাজারের লভ্যাংশ কর অবকাশ দ্বিগুণ করা, তামাকজাত দ্রব্য ও মোবাইল কলরেটে কর বৃদ্ধির প্রস্তাবনার প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার সাথে প্রযুক্তিকে যুক্ত করে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তা প্রতারণারই নামান্তর। কেননা, আলাদাভাবে শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২.১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় কম। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ মাত্র ৪.৯৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।

এতে বিশেষ বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, জিডিপি বৃদ্ধি অনেক বড় অর্জন, তার জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। এতে মাথাপিছু আয় অল্প হলেও বেড়েছে। কিন্তু অর্থনীতিকে হতে হবে জ্ঞাননির্ভর। বর্তমানে গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মান বাড়ছে না। বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো তাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. রকিবুল কবির বলেন, শিক্ষাখাতে, বিশেষত গবেষণা খাতে বরাদ্দ খুবই কম এবারের বাজেটে। যা আমরা আশা করিনি। এছাড়া এ বাজেটে পুঁজিবাজারে স্টক ডিভিডেন্টে কর বসানোর সিদ্ধান্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক অনন্যা নন্দীর সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সামস উদ-দোহা, রেজিস্ট্রার সজল কান্তি বড়ুয়া, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মো. নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।