‘বাবাকে খুঁজে দিন হাসিনা আন্টি’

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ২:১৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮

ছোট্ট শিশু হৃদি। বাবাকে দেখে না বহুকাল। একদিন উধাও হয়ে যায় হঠাৎ করেই। বন্ধু, সহপাঠী আর পরিচিতজনরা বাবার সঙ্গে স্কুলে আসে, ঘুরতে যায় দেখে কান্না পায় হৃদির।

শিশুটির বাবা পারভেজ রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ছিলেন বংশাল থানা ছাত্রদলের নেতা। তার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে, কিন্তু জবাব নেই।

আন্তর্জাতিক গুম দিবসে বৃহস্পতিবার পারভেজের মতো হঠাৎ নিখোঁজ কয়েকজনের স্বজনকে জড়ো করে বিএনপি। এদের প্রায় সবাই বিএনপি বা তার সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

হৃদি মঞ্চে উঠে বাবার ছবি হাতে নিয়ে। কণ্ঠে কান্না। তার কাঁপুনি ভরা কণ্ঠ আর্ত করে দেয় মঞ্চে এবং সামনের শ্রোতার আসনে থাকা অন্যদেরও।

বাবাকে খুঁজে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুতি জানায় হৃদি। বলে, ‘আমার বাবাকে খুঁজে দিন হাসিনা আন্টি। প্লিজ আন্টি আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন।’

‘আমার বাবার সাথে ঘুরতে যাবো, বাবা আমাকে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাবে, ঈদ করবো বাবার সাথে। কিন্তু বাবাকে পাই না।’

হৃদি বলে, ‘আঙ্কেল তোমরা তো জানো আমার বাবা কোথায়। বাবাকে তোমরা ফিরিয়ে দাও। আমি বাবাকে চাই।’ বলেই বাবার ছবিটা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে হৃদি।

তখনও মঞ্চে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ সামনে বসা অনেক নেতাকর্মী ডুকরে কেঁদে উঠেন।

হৃদির মতোই বাবার জন্য আরিয়ানের আকুতি কাঁদিয়েছে অন্যদের। তার বাবা খালেদ হোসেনের দেখা নেই পাঁচ বছর ধরে।

আরিয়ান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। মাত্র এক মিনিটের বক্তব্য। তাতেই হৃদয় ছুঁয়ে গেল সবার।

বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় বড় ডায়াসে সামনে থেকে দেখা যায় না আরিয়ানকে। তাই ছোট একটি চেয়ারে দাঁড় করানো হলো তাকে।

শিশুটি বলে, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে বাবাকে ডাকতে পারি না, দেখি না। আমি বাবাকে ফিরে পেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার বাবাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। সবাই বাবাকে নিয়ে ঘুরতে যায়, ঈদের নামাজ পড়ে আমি তো ঘুরতে যেতে পারি না।’

এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে আরিয়ান। মুহূর্তের মধ্যে হল রুমের বড়রাও ধরে রাখতে পারেনি আবেগ। শোনা যায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ।
এরপর বক্তব্য দিতে আসেন গুম হওয়া লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার। বলেন, ‘বিএনপি করার অপরাধে ইলিয়াস আলীসহ অন্য নেতাদের গুম করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমার স্বামীকে গুম করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে শাহনাজ বলেন, ‘আপনিও তো একজন সন্তানের মা। স্বজনহারা মানুষের কান্না কি আপনার কানে পৌঁছে না। আমার শ্বশুর, শাশুড়ি, তারা সন্তানের আশায় চেয়ে আছে। আমার সন্তানরা বাবা ফিরে আসবেন এই আশায় তাকিয়ে আছেন। কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।’

তেজগাঁওয়ের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাওসারের কন্যা লামিয়া আক্তার মীম মঞ্চে উঠে শুরুতেই বলে, ‘আমার বাবা কোথায়? আপনারা তো জানেন আমার বাবা কোথায়। আমার বাবাকে খুঁজে দেন আপনারা। আমার বাবাকে ছাড়া ভালো লাগে না। আপনারা কেন আমার বাবাকে খুঁজে দিচ্ছেন না।’

গুম দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময় গুম হওয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বজনরা প্রিয়জনের ছবি হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। এদের বেশিরভাগই কেঁদে কেঁদে পুরো সময পার করেছেন।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তাদের দল করতেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজকে বক্তব্য রাখা মানুষদের স্বজনদেরকে গুম করেছে। তবে কোনো বাহিনীই এই অভিযোগ স্বীকার করেনি।

-ঢাকাটাইমস।