বাবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করলেন আর্জেন্টাইন তরুণ

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৬:১৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮

২০০২ সালে দিয়েগো সিমিওনে যখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেলেন, জিওভান্নি সিমিওনের বয়স তখন ৭। সেদিনই ছেলে জিওভান্নির কচি হৃদয়ে স্বপ্নের বীজটা বুনে দিয়েছিলেন বাবা সিমিওনে।

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ নিজের ছেলেকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘একদিন তুমিও আমার মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলবে।’ ১৬ বছর পর বাবার সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে ঠিকই ‘সত্য’ প্রমাণ করলেন জিওভান্নি। আজ শনিবারই আর্জেন্টিনা মূল জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়ে গেল তার।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানোর স্বপ্ন পূরণ নয় শুধু। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিষেকটাকে রাঙিয়েও নিয়েছেন তিনি। অভিষেকেই করেছেন গোল। আর্জেন্টিনাও পেয়েছে গুয়েতেমালার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়। মানে স্বপ্নের অভিষেকেই গোল এবং জয়। ২৩ বছর বয়সী জিওভান্নির অভিষেকটা এর চেয়ে ভালো আর হতে পারত না।

খেলোয়াড় এবং কোচ, দুভাবেই দারুণ সফল দিয়েগো সিমিওনে। ৪৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলেছেন দীর্ঘ ১৯ বছর। খেলেছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, লাৎসিও’র মতো ক্লাবে। তবে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দিয়েগো সিমিওনে বেশি আলো ছড়ান আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে। দীর্ঘ ১৪ বছরে দেশের হয়ে খেলেছেন ১০৬টি ম্যাচ। অংশ নিয়েছেন ৩টি বিশ্বকাপে।

খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের ক্যারিয়ারটা যেখানে শেষ করেছিলেন, দিয়েগো সিমিওনে কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুটাও যেন করেছেন ঠিক সেখান থেকেই। তবে কোচ হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি সুনাম কড়িয়েছেন অ্যাতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়ার পরই।

২০১১ সালে যখন কোচের দায়িত্ব নেন তিনি, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ তখন ছিল সাদামাঠা মানের এক দল। সেই দলটিকেই দৈত্য রূপে রূপ দিয়েছেন সিমিওনে। এই সফল মানুষটি যদি বাবা হিসেবে নিজের ছেলেকে নিয়ে একটা ভবিষ্যদ্বাণী করে বসেন, ছেলে জিওভান্নি কি তা মিথ্যা হতে দিতে পারেন!

পারেন না বলেই সেই ছোটবেলা থেকেই বাবার ভবিষ্যদ্বাণীকে নিজের স্বপ্নে রূপ দিয়ে ফেলেন জিওভান্নি। এবং সেই থেকেই শুরু করেন স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রানপণ চেষ্টা। কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতার জোরে স্বপ্নটা সত্যিও করলেন আজ। বাবা দিয়েগো সিমিওনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও ছেলে জিওভান্নি বেছে নেন মাঠের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পজিশনটিই। ২৩ বছর বয়সী জিওভান্তি খাঁটি স্ট্রাইকার। দর্শকদের মনোরঞ্জনের খোরাক গোল করাই তার কাজ।

আর এই কাজটা তিনি খুব ভালোই পারেন, সেটা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন জিওভান্নি। ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা আর সামর্থের স্বাক্ষর রেখেই ফিওরেন্তিনার ফরোয়ার্ড জায়গা করে নেন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়েও খেলেছেন ৩টি ম্যাচ। আজ শনিবার তো গুয়েতেমালার বিপক্ষে মূল জাতীয় দলের হয়েই অভিষেক হয়ে গেল।

১৬ বছর আগে করা বাবার সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হওয়ায় খুব খুশি আর্জেন্টাইন তরুণ, ‘আমি তখন খুব ছোট। রিভারপ্লেটে খেলতাম। তখনই আমার বাবা বলেছিলেন, একদিন আমিও এখানে খেলব।’ অভিষেকেই গোল পাওয়ার আনন্দের বিষয়ে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিওভান্নি বলেছেন, ‘ম্যাচে আমি আসলে একাধিক সুযোগই পেয়েছি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি।’