বাবা বললেন তোর স্বামীকে গুম করে ফেলেছি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

হবিগঞ্জের বাহুবলের হাওর থেকে কাউছার মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রউয়াইল গ্রামের হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত কাউছার মিয়া হবিগঞ্জ পৌর এলাকার উমেদনগর গ্রামের মৃত আকল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরের শায়েস্তানগর মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চার বছর আগে কাউছার মিয়া সদর উপজেলার টঙ্গিরঘাট গ্রামের মকসুদ আলীর মেয়ে সুখবানুকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন অনেকটা সুখেই চলছিল। এর মধ্যে সুখবানু ও কাউছারের সংসারে এক সন্তানের জন্ম হয়। সম্প্রতি কাউছার মিয়ার স্ত্রী সুখবানু তার বাবারবাড়িতে বেড়াতে যান। স্ত্রীকে দেখার জন্য সোমবার রাতে কাউছার মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সুখবানু দেখেন তার স্বামী কাউছার ঘরে নেই। এ সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, কাউছার কোথায় গেছে তারা জানে না।

একপর্যায়ে সুখবানুর বাবা মকসুদ আলী তাকে বলেন, তোর স্বামী রাতে গাছে সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আমরা নিজেরা বাঁচার জন্য তার মরদেহ গুম করে ফেলেছি। এ ব্যাপারে তুই কোনো কথা বলিস না।

এরপর সুখবানুকে তার শ্বশুরবাড়ি উমেদনগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। উমেদনগরে আসার পর কাউছারের পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান জানতে চাইলে সুখবানু তাদের জানান, কাউছার কোথাও কাজে গেছে। তবে তাকে কিছু বলে যায়নি। ২/৩ দিন কাউছার বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় শনিবার সকালে কাউছারের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল হাসিমের কাছে সুখবানুকে নিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে সুখবানু জানান, কাউছার তাদের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছিল। তার বাবা-মা মরদেহ গুম করে ফেলেছে। পরে কাউছারের স্ত্রী সুখবানু সদর মডেল থানায় এসে এ বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। এর প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান টঙ্গিঘাট গ্রামে গিয়ে কাউছারের শ্বশুর মকুসদ আলী ও তার শাশুড়ি খয়রুনেচ্ছা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ করেন।

কাউছারের শ্বশুর মকসুদ আলী পুলিশকে জানান, কাউছার গাছে সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিজেরা বাঁচার জন্য তার মরদেহ হাওরে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ রউয়াইল হাওরে গিয়ে দিনভর খোঁজাখুঁজি শেষে সন্ধ্যার দিকে কচুরি পানার নিচ থেকে কাউছারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জানান, পরিকল্পিতভাবে কাউছারকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কাউছারের শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।