বাবা মিস্ত্রী, মা হোটেলে কাজ করে; ছেলে ভারতের কনিষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

বাবা ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, মা ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁয় রুটি তৈরি করেন। কিন্তু কষ্ট করে হলেও ছেলের পড়াশোনার ওপর কোনো আঘাত আসতে দেননি তারা। ছেলেও মা-বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের মর্যাদা রেখেছে। ভারতের কনিষ্ঠতম আইপিএস কর্মকর্তা হয়েছেন তিনি।

কনিষ্ঠতম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিটেন্ডেন্ট পুলিশ (এএসপি) হয়ে আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাজস্থানের জামনগর থানায় কাজে যোগ দেবেন তিনি। নিজের এই সাফল্য বাবা-মাকে উত্সর্গ করেছেন।

দেশের কনিষ্ঠতম এই এএসপি-র নাম সাফিন হাসান। গুজরাতের পালানপুরে জন্ম তাঁর। ছোটবেলায় একবার তাঁর জেলার জেলাশাসককে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা সমাধান করতে দেখেছিলেন।

খুব সহজ আর সুন্দরভাবে গ্রামবাসীর সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন সেই জেলাশাসক। তাঁদের সমস্ত সমস্যার সমাধান বাতলে দিচ্ছিলেন। বিনিময়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন শ্রদ্ধা আর সম্মান।

ওই জেলাশাসককে দেখেই সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হয় সাফিনের মনে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

তাঁকে অবশ্য শুধু বাবা-মা সাহায্য করেননি, এমন এক মেধাবী ছেলের যাতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন এক প্রতিবেশী পরিবারও।

ইউপিএসসি-তে সারা ভারতে ৫৭০ র‌্যাঙ্ক করেন তিনি এবং মাত্র ২২ বছর বয়সে ভারতে কনিষ্ঠতম আইপিএস অফিসার হয়ে যান।

ছেলের কৃতিত্বের পর সেই সব কষ্টের দিনের কথা মনে করে চোখে জল চলে আসে তাঁর বাবা-মার।

একসময় সুরাতের হিরে ইউনিটে কাজ করতেন তাঁর বাবা মুস্তফা হাসান এবং মা নাসিম বানু।

সংসারে অর্থের কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু তার পরই দুর্ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। তাঁদের দু’জনেরই কাজ চলে যায়।

অর্থের অভাব এতটাই প্রকট হয়ে গিয়েছিল যে, দু’বেলা খাবার জোটানোও মুশকিল হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ছেলের পড়াশোনার খরচ কী ভাবে বহন করবেন, তাই ছিল সবচেয়ে দুশ্চিন্তার।

কিন্তু এর মাঝের সময়টা তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ওই প্রতিবেশী পরিবার। নিজের ইনস্টাগ্রামে তাঁদের ছবি শেয়ার করে তাঁদের যশোদা মা এবং নন্দ বাবা বলে অভিহিত করেছেন সফিন। লিখেছেন, ‘রক্তের সম্পর্ক নেই, এঁরা আমার যশোদা মা আর নন্দ বাবা।’