বালিয়াকান্দিতে অপরিকল্পিত খননে পাকা সড়ক ধ্বসে নদীতে

মেহেদী হাসান মাসুদ মেহেদী হাসান মাসুদ

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৭:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে চত্রা নদী পুনঃখনন কাজ শেষ না হতেই পাউবোর এক শ্রেণীর দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অপরিকল্পিত ভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির ফলে পাকা সড়ক ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। মাটি বিক্রির জন্য সড়কের উপর মাটি জমিয়ে রাখায় দু’টি গুরুত্বপুর্ণ সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যানবাহন ও সাধারন লোকজন।

এলাকার লোকজন অপরিকল্পিত ভাবে মাটি কাটায় বাঁধা সৃষ্টি করলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তা (এস,ও) মাহমুদুল হাসান বাধা সত্বেও কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয় এলাকার লোকজনের সাথে অসাধাচারন করেন। অপরিকল্পিত ভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাকা সড়কে ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী দাবী করেন, চত্রা নদীটি খননের পুর্বেই অনেক গভীর ছিল। নতুন করে খননের কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। সম্প্রতি সময়ে নদীর তীর দিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সামান্য কিছু পেটুয়া বাহিনীর পেটভরতে গিয়ে দু,দফায় সরকারী অর্থ পানিতে চলে যাচ্ছে তৃতীয় দফায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নতুন প্রকল্প গ্রহনের আশায়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জানাগেছে, বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়নে গড়াই নদী-সিরাজপুর হাওড়ের উৎপত্তিস্থলের চত্রা নদী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের রাজবাড়ী পওর বিভাগাধীন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুণঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় চত্রা নদীর ১৬০০০ কিমি. ২৩০০০ কি.মি.= ৭০০০ কি.মি পুণঃখনন কাজের প্যাকেজ নং-পি-৬/রাজবাড়ী। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৫৪ মতিঝিল বা/এর নূনা ট্রেডার্স ৭.৯৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ২২.০০ থেকে ২৩০০০=৭০০০ কি.মি খাল পুনঃখনন শুরু করেছে।

বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের খাটিয়াগাড়া, চরঘিকমলা, বাকসাডাঙ্গী, বিলটাকাপোড়া এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, নারুয়া বাজার থেকে লাঙ্গলবাঁধ ঘাট পর্যন্ত সড়কের বাকসাডাঙ্গী এলাকায় সড়ক প্রায় ২শত মিটার জায়গা নিয়ে পাকা সড়ক ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে গেছে। শুধু তাই নয় সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে যানবাহন চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হেটে চলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বালিয়াকান্দি-পাংশা সড়কের উপর অবৈধ ভাবে খননকৃত মাটি বিক্রির জন্য মাটির স্তুপ করে রাখা হয়। সড়কের মাটি পড়ে থাকায় বৃষ্টিতে কাদায় একাকার হয়েছে। এতে সাধারন মানুষসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনও সড়কের উপর মাটির স্তর পড়ে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুকির মধ্যে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ইউনুছ আলী, দুলাল মন্ডল, আইয়ুব মন্ডল, আহেদ আলী জানান, এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে প্রকল্প নেওয়ার কথা শিল্প ও বাণিজ্যের। সে প্রকল্প হাতে না নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ প্রকল্প হাতে নিয়ে কামাচ্ছে মোটা অংকের অর্থ পেটুয়া বাহিনীরা। চত্রা নদী খনন প্রকল্প নেওয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। এটা এলাকার মানুষের জন্য কোন উপকারে আসবে না। কারণ চত্রা নদীটি যে গভীর ছিল নতুন করে খননের প্রয়োজন শুধু হয়ে দাড়িয়েছে লুটপাটের জন্য। নারুয়া বাজার থেকে লাঙ্গলবাঁধ সড়কটির উপর মাটি ফেলে সম্পুর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়। সড়কের পাশ কেটে গর্ত করা হয়। এলাকার লোকজন বাধা দিলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মাহমুদুল হাসান ও মুরাদ হোসেন এলাকার লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। জোড়পুর্বক রাস্তার সোল্ডার (পাশ) খুড়ে খনন করায় এ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরো বলেন, সড়কের উপর মাটি ফেলে বিভিন্ন ইট ভাটা ও স্থানীয় লোকজনের নিকট মাটি বিক্রি করায় মাটি স্তুপ করে রাখা হয়। পরে মাটি সরিয়ে ফেললেও সড়কের উপর থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এতে একদিকে সরকারী সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। চত্রা নদীটি যেভাবে গভীর করে খনন করা হয়েছে তার কোন প্রয়োজন ছিল না। তারপরও তা খনন করেছে। ফলে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নদীর দু,পাড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এভাবে কাজ করতে বাধা প্রদান করলেও বালিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মাহমুদুল হাসান এলাকার লোকজনের সাথে দুব্যবহার করে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ না যেতেই সড়কের পাশে দেখা দিয়েছে ধ্বস। নদী খনন ও সড়কে ভাঙ্গন এবার ভাঙ্গন প্রতিরোধে নতুন প্রকল্প আসবে।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি লুলু বিশ্বাস জানিয়েছেন, যে ভাবে মাটি কাটার নিয়ম আছে সে অনুযায়ী কাটা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সব জায়গায় তো ধ্বস হয়নি। এক জায়গায় হতেই পারে। আমরা তো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী কাজ করছি। যাতে আর ভাঙ্গনের সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, সড়কের পাশ খুড়ে খনন করতে আগে থেকেই নিশেধ করেছি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি তা না করায় পাকা সড়ক ভেঙ্গে নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

এব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মাহমুদুল হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদী যেভাবে কাটছে নিয়ম অনুযায়ী কাটছে। সড়কে ফাটল ধরেছে বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে তারা খুব শীঘ্রই সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ডিবিশন ইঞ্জিনিয়ার এসএম নুরুনব্বী প্রকল্প সম্পর্কে জানান, আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কে ফাটল দেখেছি। আগামীকাল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দিয়ে পাইলিং করে সড়ক ঠিক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা বলেন, ‘হ্যাঁ বিষয়টি আমি শুনেছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে কাজটি করা হচ্ছে। আমাদের মিটিং এ সড়কে ফাটল ধরার বিষয়টি আলাপ হয়েছে। বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।