বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইয়াসমিন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ২:৩৭:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার ঘাটা-১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইয়াসমিন আক্তার। বৃহস্পতিবার ১২ বছরের এই মেয়েটির বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতি যখন প্রায় সম্পন্ন তখনই বিষয়টি জানতে পারেন দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন। তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করেন ইয়াসমিনের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানা শিলার কাছে। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে দোহার থানা পুলিশের সহায়তায় ইয়াসমিনদের বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন এসিল্যান্ড।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার অতি গোপনীয়তার মাধ্যমে উপজেলার বটিয়া গ্রামের মো. হাসান তার মেয়ে ইয়াসমিনের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। বিবাহ দিতে চেয়েছিলেন। পরিবারে চার মেয়ের মধ্যে ইয়াসমিন সবার ছোট। জানা গেল, এর আগেও তার বড় মেয়ে আশুরা আক্তারকে অষ্টম শ্রেণী, মেঝ মেয়ে সুরাইয়াকে অষ্টম শ্রেণী, সেজো মেয়ে রিমা আক্তারকে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ এলাকায় নিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেই একইভাবে ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইয়াসমিনকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পান। একপর্যায়ে মেয়েটির বাবা হাসান এ ধরনের কাজ আর করবেন না এবং মেয়েকে যথারীতি স্কুলে পাঠাবেন বলে এসিল্যান্ডের কাছে মুচলেকা দিলে তাকে ক্ষমা করা হয়।

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ইয়াসমিন তখন বলে, ‘আমি রোজ স্কুলে যেতে চাই, পড়াশুনা করতে চাই।’ ইয়াসমিনের বিয়ে বন্ধ হওয়ার খবরে খুশি হয় স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকরা।

দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইয়াসমিনের বিয়ের কথা শুনামাত্র আমি ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেছি।

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার হস্তক্ষেপে উপজেলার মুকসুদপুর গ্রামে আরো একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়।