বাড়ির পাশ থেকে দিন-দুপুরে নিখোঁজ ৩ বছরের বাচ্চা

তারেক পাঠান তারেক পাঠান

পলাশ(নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 5:39 PM, July 22, 2019 | আপডেট: 5:39:PM, July 22, 2019
ছবি: টিবিটি

৫ম শ্রেণী পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সিয়ামের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘন্টার মধ্য পলাশে এবার দিনে দুপুরে বাড়ীর পার্শ্বে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হল তৌহিদুল নামে সাড়ে তিন বছরের একটি বাচ্চা।

কে বা কাহারা বাচ্চাটি নিয়ে চলে গেছে এখন অবদি তা জানা যায়নি। গতকাল ২১ জুলাই রবিবার বিকালে পলাশ উপজেলার বালুচরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উধাও হওয়া বাচ্চাটি বালুচরপাড়া গ্রামের নান্নু খানের পালিত নাতি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা তৌহিদুলকে হারিয়ে নান্নু খাঁনের পরিবারের সদস্যরা বার বার কান্না ভেঙ্গে পরছে। হারানো তৌহিদুলকে ফিরে পেতে বার বার আর্তনাদ করছে।

এমন ঘটনায় স্থানীয়রাও অনেকটা বাক রুদ্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেওয়া ভাষা টুকু সবাই যেন হারিয়ে ফেলছে। তৌহিদুলকে খুঁজে পেতে সকাল থেকে রাত অবধি উপজেলার আনাচে কানাচে তার সন্ধানে মাকিংও করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে তৌহিদুলকে মনে হয় ছেলে ধরার লোকেরা নিয়ে গেছে।

পলাশ থানায় নান্নু খানের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,তৌহিদুল ইসলাম তার পালিত নাতি। গত ২১ জুলাই রবিবার বিকাল ৪টার দিগে,তৌহিদুল তার বসত বাড়ীর সামনে খেলতে যায়।

বিকাল ৫টার দিগে নান্নু খানের স্ত্রী ,তৌহিদুলকে বাড়ীতে আনতে গিয়ে না পেয়ে তাৎক্ষনিক আশেপাশের বাড়ীঘর,খেলার মাঠ,আত্মীয়স্বজনসহ সকল স্থানে, খুঁজাখুজি করে না পেয়ে ওই দিন রাতেই পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পলাশ থানায় সাধারণ ডায়রি নং: ৭৭৬ তাং ২১/০৭/২০১৯ইং।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশ থানার এস আই সুমন জানান,তৌহিদুল নামে একটি বাচ্চা নিখোঁজ হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তার পালিত নানা নান্নু খাঁন করেছে। বাচ্চাটির সন্ধান পেতে বাংলাদেশের সব থানায় ইতিমধ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে । আমরা বাচ্চাটি খুঁজে বের করার সকল প্রকার চেষ্ঠা চালাচ্ছি।

এ দিগে এর আগে গত ২০ জুলাই শনিবার সকাল ৬ টার দিগে পলাশে ছেলে ধরা লোকের হাত থেকে নিজ প্রচেষ্ঠায় ৭ ঘন্টা পর কালিগঞ্জ থেকে ফিরে আসল সিয়াম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র।

সিয়াম উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৯ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ শ্রেণীর ছাত্র। সে ওই ইউনিয়নের কাউয়াদি গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে। আমজাদ মিয়া বালিয়া বাজারে একটি চা স্টলের দোকানদার।

এ ঘটনার সত্যতা জানতে ভোক্তভোগী ছিয়ামের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২০ জুলাই শনিবার সকাল ৬ টার দিগে সিয়াম প্রাইভেট পড়তে বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় অপরিচিত তিনজন মধ্য বয়সী লোকের মাথায় কালো ক্যাপ,মুখে কালো মার্ক্রস পড়–য়া একটি হলুদ রংঙ্গের গাড়ি থামিয়ে তার মুখে রুমাইল চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে।

দুই ঘন্টা পর তার গেন ফিরলে সে দেখতে পায় ঘোড়াশাল সেতু পার হয়ে গাড়ী থামিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দুইজন মোবাইল ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে আর একজন ড্রাইভারের সিটে বসে আছে।

এ সময় সিয়াম কৌশলে অপহরণকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দৌঁড়ে ঘোড়াশালের রাস্তার দিগে ছুটে আসতে থাকে। পথি মধ্যে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা পলাশ আসার সিএনজিতে তাকে ওঠিয়ে দেয়। পরে পলাশ সিএনজি স্ট্র্যান্ডে পৌঁছে তার বাবাকে সে দেখতে পায়।

এ ঘটনায় ছিয়ামের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, সকাল ৮টার দিগে তার সাথে প্রাইভেট পড়ুয়া বন্ধুরা বাড়ীতে এসে খবর দেয় ছিয়াম নাকী প্রাইভেট পড়তে যায়নি। বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে বাড়ী থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে সিয়ামকে বিভিন্ন যায়গায় খুঁজতে থাকি।

কিছুক্ষণ পর রাস্তার পার্শ্বে তার বই, খাতা,কলম পরে থাকতে দেখি। এ দিগে দেশবন্ধু সুগার মিলে কর্মরত কিছু শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে সকালে যাওয়ার পথে নাকি এইখানে হলুদ রংয়ের একটি প্রাইভেট কার দাঁড়ানো ছিল দেখতে পায়।

পরে আমি ও আমার ভাই এক সাথে তাকে বিভিন্ন যায়গায় খুঁজে পলাশ সিএনজি স্ট্র্যান্ডের কাছি কাছি গিয়ে দীর্ঘ সাত ঘন্টা পর আমার ছেলে সিয়ামকে দেখতে পাই। পরে তার মুখে ঘটনার বিস্তারি ঘটনা জেনে পলাশ থানায় এই বিষয়ে অবগত করি ও তাকে ডাক্তার দেখাই। তার বুকের মাঝে কিল ঘুষি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরনাহার বেগম বলেন,সিয়াকে কে বা কারা ধরে নিয়ে গেছে শুনার পর সাথে সাথে আমার উর্ধতন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জানিয়েছি।

স্কুল ছাত্র সিয়ামের ঘটনায় পলাশ থানার ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা বলেন,আপনারা যা শুনেছেন আমরা তা-ই শুনেছি। ওই ছেলে কার ও নাম ঠিকানা বলতে পারছে না। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, স্কুল ছাত্র সিয়ামের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আর নিখোঁজ সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা তৌহিদুল খুঁজে বের করতে থানা পুলিশ সকল প্রকার চেষ্ঠা করে যাচ্ছে।