বাড়ি নির্মাণে ঋণের সুদের হার কমলো

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১১:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮
বাড়ি নির্মাণে ঋণের সুদের হার কমলো

টিবিটি অর্থ ও বাণিজ্য: হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) সুদহার ১০ শতাংশ ও ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশে নামিয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে সুদের এই হার কমানো হলেও তা গ্রাহকদের জন্য জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছিল।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকার জন্য ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছিল। এদিকে ২০১৭ সালের এক আদেশে বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক এখন থেকে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে দ্বিগুণ হারে ঋণ পাবেন। এর আগে বাড়ি নির্মাণের জন্য একজন গ্রাহক সরকারি এই প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ৪০ লাখ টাকা ঋণ পেতেন।

তা বাড়িয়ে বাড়ি নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা এবং ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএইচবিএফসি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের হিসাব পদ্ধতি পরিবর্তন এবং সুদের হার আগের ১২ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে স্থান ও প্রোডাক্টভেদে ১০ শতাংশ, সাড়ে ৯ শতাংশ, ৯ শতাংশ ও সাড়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করে।

যা ২০১৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছিল। সুদহার হ্রাসজনিত কারণে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের কিস্তি আদায় পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে কর্পোরেশনের আয়ের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব পড়বে না।

ক্রমান্বয়ে সুদজনিত আয় বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে বিএইচবিএফসি। জানা গেছে, বিএইচবিএফসির ঋণের সুদের নমিনাল হার ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কমানো হলেও কার্যকর সুদের হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কারণ আগের ডেফার্ড ইন্টারেস্ট পদ্ধতির কারণে ঘোষিত সুদহার অপেক্ষা কার্যকর সুদহার কমে যেত। বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড ইএমআই পদ্ধতি হিসাবের কারণে ঘোষিত এবং কার্যকর সুদের হার প্রায় একই থাকে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহায়ন খাতে ঋণের সিলিং বৃদ্ধি পেয়েছে ও কমে গেছে সুদের হার।

বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর এখন বিদ্যমান ঋণের সিলিং কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর সুদের হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। এই বাস্তবতায় বাজারে টিকে থাকতে বিএইচবিএফসিও গৃহনির্মাণের ঋণের সিলিং বাড়ানো ও সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তাই গত বছর থেকেই ঋণ বাড়ানো ও সুদের হার হ্রাস করা শুরু হয়। যা চলতি মাসেও কমানো হলো।

ঋণের সিলিং বৃদ্ধির বিষয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, কর্পোরেশনের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠান হতে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়। বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় তিন কাঠা প্লটে ছয়-সাত তলা বাড়ি নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন করে থাকে।

পিডব্লিøউডি শিডিউল-২০১৪ অনুযায়ী কর্পোরেশনের ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একজন ঋণগ্রহিতার ওই তিন কাঠার প্লটে দুই বা আড়াই তলার বেশি নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। ফলে একজন ঋণগ্রহিতা ঋণে নির্মিত ভবনে নিজে বসবাস করে অবশিষ্ট অংশে ভাড়ার টাকা দিয়ে কর্পোরেশনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন না। কর্পোরেশন হতে দ্বিতীয় বন্ধক অনুমোদন দেয়ার নিয়ম প্রচলিত নেই। তাছাড়া অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও দ্বিতীয় ঋণ অনুমোদন করে না।

উল্লেখ্য, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সিলিং বেশি থাকায় এবং কর্পোরেশনের ঋণের সিলিং ৫০ লাখ টাকা অপ্রতুল হওয়ার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীর এলাকায় ঋণ গ্রহিতারা কাক্সিক্ষত বাড়ি নির্মাণ না করতে পেরে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশন উল্লেখ করেছে, এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরী এলাকায় আবাসন খাতে কর্পোরেশন ঋণের প্রবাহ সঙ্কুচিত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ঋণের সিলিং বিদ্যমান ৫০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এক কোটি টাকা করা জরুরিভাবে প্রয়োজন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলার অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবাসন খাতে ঋণের সিলিং সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টাকা।