বিএনপির প্রার্থীদের শপথ নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানালেন খালেদা জিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে কারাগার থেকে সাড়ে ১২টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। পরে ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আদালতে উপস্থিত হন।

সকাল থেকে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত আদালত ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক প্রহরা। আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন পুলিশ বাহিনীর সদস্য, মোড়ে মোড়ে রাখা হয় পুলিশের বিশেষ গাড়ি।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী পুলিশের গাড়ি আদালতের সামনে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নামানোর পর আদালতে হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন খালেদা জিয়া। আদালতে পুরো সময় নিশ্চুপ ছিলেন বেগম জিয়া। পুরো সময় জুড়েই কোন কথা বলেনি। এদিন তিনি গোলাপী শাড়ি পড়ে হুইল চেয়ারে বসে আদালতে হাজির হন। এ সময় পা থেকে কোমর পর্যন্ত সাদা ওড়না দিয়ে ঢাকা ছিল তার।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া আসার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এজলাসে আসেন। শুরু হয় শুনানি। তখন আদালতে হাজির বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি এগিয়ে যান খালেদা জিয়ার কাছে। দুজন কথা বলেন দুই থেকে তিন মিনিট।

কী বললেন খালেদা জিয়া, জানতে চাইলাম শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানির কাছে। অ্যানি বললেন, ‘ম্যাডাম জানালেন, তাঁর শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।’ রাজনীতিকেন্দ্রিক কোনো আলোচনা খালেদা জিয়ার সঙ্গে হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমরা এই মামলার জব্দ তালিকার কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। আদালতে আবেদন করেছি। ওই কাগজপত্র ছাড়া আমরা কীভাবে শুনানি করব।’ আদালত তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের জানিয়ে দেন, শিগগিরই তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। শুনানির এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন এগিয়ে যান খালেদা জিয়ার কাছে। এক থেকে দেড় মিনিট তাঁদের কথা হয়।

শুনানি চলার একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার কাছে যান এ মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দু-এক মিনিট খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার পর আবার তিনি তাঁর আসনে গিয়ে বসেন। এরপর খালেদা জিয়ার কাছে যান স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও মামলার আসামি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

খালেদা জিয়া আজ যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে সব থেকে বেশি সময় ধরে (৯ মিনিট) কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। এক ঘণ্টার বেশি সময় আদালতে অবস্থান করা খালেদা জিয়া বেশির ভাগ সময় চুপচাপ ছিলেন। তিন কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও কথা বলেছেন পাঁচজন আইনজীবীর সঙ্গে।

বিএনপির নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেবেন কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আদালত চত্বরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চান না।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন এমন কয়েকজন নেতার ভাষ্য, বিএনপির নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নিক, তা চান না খালেদা। দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন নেতাদের।

বেলা দুইটার কিছুক্ষণ পর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ঠিক করে এজলাস ত্যাগ করেন। এরপর খালেদা জিয়াকে ঘিরে রাখেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। কালো রঙের পুলিশের একটি গাড়িতে করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া গাড়িতে থেকে আদালতের সামনে দাঁড়ানো বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অন্যদের হাত নেড়ে বিদায় জানান।