বিএনপি-জামায়াত নয়, ছদ্মবেশী শত্রুরাই বেশি সক্রিয় : কাদের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নয়, ছদ্মবেশী শত্রুরাই বেশি সক্রিয়। এরাই গুজব সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। তারা সুশীলে আছে, গণমাধ্যমেও আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে যুবলীগ আয়োজিত শোক দিবসে মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

কারও নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য সারা দুনিয়ায় প্রচার করেছেন। জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বানানোর জন্য সবধরনের চেষ্টা করেছেন, নিরীহ শিশুদের যুক্তিসঙ্গত সামাজিক আন্দোলনকে নিয়ে ছদ্মবেশী কুচক্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে বললেন, বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে, যেখানে কোনো হতাহতই হয়নি।

তিনি বলেন, এ অপপ্রচার নোবেল বিজয়ীদের পর্যন্ত বিবৃতি দিতে প্রলুব্ধ করেছে। এ কুচক্রীমহলের কতটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

২১ আগস্টের বিচার চেয়ে বিএনপি নিষ্ঠুর রসিকতা করছেন- এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্টের খুনিদের পৃষ্ঠপোষকরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। বিএনপি নেতারা ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। এটাকে কী বলবেন আপনি? ইতিহাসের নৃশংস বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতি নিষ্ঠুর রসিকতা।

ক্ষুব্ধ মনোভাব ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ধিক্কার জানাই এ রাজনীতিকে, ধিক্কার জানাই এ নোংরা রাজনীতিকে। এরা খুন করে খুনের বিচার চাইতে পারে, দুর্নীতি করে দুর্নীতির বিচার চাইতে পারে, দণ্ডিত হয়েও নিরপরাধ বলে নিজেদের জাহির করতে পারে।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) এখন ক্ষমতা চায় না, কারণ তারা জানে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শেখ হাসিনাকে হটানোর ষড়যন্ত্র করছে।

সারা দেশের যুবসমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। ২০০১ সালের মতো ১১টা বাজার আগেই ভোট শেষ-এটা যেন না হয়। অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দিতে হবে।

তুমি কি সেই আগের মতোই আছো? ভারতীয় শিল্পী মান্না দে’র একটি বিখ্যাত গান শুনিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি গাইলেন, ‘তুমি কি সেই আগের মতোই আছো, নাকি অনেক খানি বদলে গেছো, জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।’

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে ওমর ফারুক বলেন, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমনসহ ছোট ছোট যানবাহন নিষিদ্ধ করেছেন, ভালো কথা। ছোট যান চলাচলের বিকল্প কিছু না করেই এটা যে করলেন তাতে কাজটা কি খুব ভালো হয়েছে? এ কাজ যে করেছেন, তাহলে আমার স্ত্রী অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেব কী করে? আমার মেয়েটা কি ট্রাকে করে কলেজে যাবে? আমার বাড়ি তো মহাসড়কের পাশে, আমি চলাচল করব কেমন করে? মহাসড়কের পাশে যারা বসবাস করে তাদের জন্য কোনো বিকল্প রাস্তা তো রাখেননি।

তিনি বলেন, ঈদের আগে দুদিনের ব্যবধানে ৮০০ লোককে জামিন দেয়া হলো, মিনিটে কতজন জামিন পেয়েছেন তা জানতে ইচ্ছে করে। সচিবালয়ের চারপাশে এরা কারা? তা জানতে ইচ্ছে করে। সচিবালয়ের গায়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাইনবোর্ড (ব্যানার/বিলবোর্ড) কেন? এসব প্রশ্ন ও বিবেকের জ্বালা মেটানোর জন্য আপনাকে আজ ডেকে এনেছি।

তবে ওমর ফারুক চৌধুরীর এসব প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, বেলাল হোসাইন, মিজানুল ইসলাম মিজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট প্রমুখ।