বিএসএমএমইউতে মালয়েশীয় তরুণীর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯

সাধারনত চিকিৎসার বাংলাদেশিদের মধ্যে বিদেশ যাবার একটা ঝোঁক থাকে, কিন্তু এবার এর উল্টো এক ঘটনা ঘটেছে। নিজের দেশে চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও মানসম্মত না হওয়ায় বাংলাদেশে উড়ে এসেছেন এক মালয়েশীয় তরুণী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন তিনি। রোজ লায়লা নামের ওই মালয়েশীয় তরুণী তিন মাসের চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে। তার স্বামী বিন সালাউদ্দিন বাংলাদেশি। তার বাড়ি চাঁদপুরের ফকরাবাদে। তবে তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, রোজ লায়লার চিকিৎসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম কোনো বিদেশির সফল কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। রাতেই স্বামীর সঙ্গে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

বিন সালাউদ্দিন জানান, এক যুগ আগে তিনি মালয়েশিয়া যান। আসবাব তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে লায়লার সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম পরবর্তী গেল বছরের ১৪ মার্চ বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন লায়লা। চিকিৎসায় ধরা পড়ে দুটি কিডনিই পুরোপুরি অচল তার।

মালয়েশিয়ায় কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও সেখানে নাম দিয়ে সিরিয়াল পড়তে লেগে যায় বছরের পর বছর। আর এতদিন বিকল কিডনি নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি এই দম্পতি। তাই তিন মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।
টানা তিন মাসের চিকিসা শেষে লায়লা এখন সুস্থ। তাকে কিডনি দিয়েছেন বড় বোন রুহানি। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫ জানুয়ারি কিডনি প্রতিস্থাপন করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ইউরোলজি বিভাগ।

লায়লার চিকিৎসার নেতৃত্ব দেন ইউরোলজি বিভাগের ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের হাবিবুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন তৌহিদ দীপু, এরশাদ, রেমিন রাফি, সাইফুল ও জাকির সুমন। নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) রফিকুল আলমের নেতৃত্বে ছিলেন ওই বিভাগের চেয়ারম্যান আছিয়া খানম ও শহীদুল ইসলাম।

বিন সালাউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে স্ত্রীর চিকিৎসায় ভীষণ খুশি তিনি। বাংলাদেশের চিকিৎসা নিয়ে নানা নেতিবাচক কথা শোনা গেলেও তিনি আস্থা রেখেছেন এ দেশের চিকিৎসকদের ওপর। অস্ত্রোপচারে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও দুটি ইনজেকশন দুই লাখ টাকায় কিনতে হয়েছে। তাছাড়া তিনমাস কেবিন ভাড়াসহ আনুষাঙ্গিক কিছু খরচ হয়েছে।
Add Image