বিজি-৪০৩৬ ফ্লাইটে একাই আসলেন সৌদি প্রবাসী যুবক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৫:১৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

সৌদি আরবের জেদ্দা বিমান বন্দরের তিনটি ছবি দিয়ে গত রবিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক শাহীন রেজা ফেসবুকে লেখেন, ‘বিজি-৪০৩৬ ফ্লাইটে জেদ্দা টু ঢাকা। যাত্রী শুধু আমি একজন। ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ এরপর আজ মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত তার এই স্ট্যাটাসটি ১৪ হাজার শেয়ার হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, জেদ্দা থেকে ঢাকায় আসা বিমানটি ছিল বোয়িং-৭৮৭-৮ (৭৮৮) ড্রিমলাইনার মডেলের। এতে আসন ছিল মোট ২৫৪টি। আর ফ্লাইটের একমাত্র যাত্রী ছিলেন শাহীন। বিমানের ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টায় ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

জানা গেছে, করোনার সর্বাত্মক লকডাউনে হঠাৎ করেই গত ১৭ এপ্রিল বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় অনেক প্রবাসী দেশে ফেরার টিকিট কাটেন। তবে সৌদি আরব বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের ল্যান্ডিং পারমিশন (অবতরণের অনুমতি) না দেওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। বাতিল করেন তাদের দেশে ফেরার টিকিট।

তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম একজন ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাহীন রেজা। ফ্লাইট চালুর সংবাদ শুনেই ঝুঁকি নিয়ে টিকিট কেটে রেখেছিলেন। শর্ত মেনে করেছিলেন কোভিড-১৯ পরীক্ষাও। সেই অনুযায়ী টিকিট কাটেন সৌদির জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪০৩৬ ফ্লাইটের।

ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে জেদ্দা যাচ্ছিল, সেখান থেকে আবার যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় ফেরার শিডিউল ছিল। বাংলাদেশ থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি ছাড়ার আগেই জেদ্দার বিমানবন্দরে হাজির হন শাহীন। বসেছিলেন ফ্লাইটের অপেক্ষায়। অবশেষে ফ্লাইট এল। একমাত্র যাত্রী হিসেবে দেশে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শাহীন বলেন, আমি মক্কায় একটা স্কুলে চাকরি করি। প্রতি বছর রমজান মাসে স্কুল দুই মাসের ছুটি থাকে। সেই ছুটিতেই দেশে ফিরি। কিন্তু গত বছরের রমজানে করোনার কারণে দেশে ফিরতে পারিনি, তাই এবার আসার পরিকল্পনা করি। ১৫ এপ্রিল আমি বিমানের একটি টিকিট কাটি, তখনও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ। লকডাউনে এই ফ্লাইটও মিস হতে পারে এটি জেনেও টিকিট কিনে রেখেছি।

তিনি বলেন, ১৮ এপ্রিল জেদ্দার বিমানবন্দরে গিয়ে উপস্থিত হই। সেখানে বিমানের পক্ষে চেক-ইন কাউন্টারে ছিলেন দুইজন সৌদি নাগরিক। তারা আমাকে বলেন, ‘তুমি অনেক ভাগ্যবান, একা অত বড় ফ্লাইটে যাবে।’ তারা দুইজন আমার সঙ্গে সেলফি তুলে এবং মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে আমি প্লেনের চড়ে দেখি ভেতরে আমি একাই।