বিজ্ঞানকে অবহেলা করা সেই রমেশই পেলেন ভারতের শিক্ষার দায়িত্ব

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৭:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০১৯

বছর কয়েক আগে তিনি বলেছিলেন, জ্যোতিষ চর্চার কাছে বিজ্ঞান কিছুই না, তুচ্ছ ব্যাপার। সেই রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। শিক্ষার ভার এখন তার হাতে। খবর: আনন্দবাজার।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের হেমবতী নন্দন বহুগুণা গঢ়বাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে ওখানেই পিএইচডি করেন নিশঙ্ক। চাকরি জীবনের শুরুতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-পরিচালিত সরস্বতী শিশু মন্দিরের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯০ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোটে পাঁচ বারের কংগ্রেস বিধায়ক শিবানন্দ নৌটিয়ালকে হারিয়ে প্রথম নজরে আসেন তিনি।

লোকসভা ভোটে হরিদ্বার থেকে সামান্য ব্যবধানেই জিতেছেন সংঘ-ঘনিষ্ঠ ৬১ বছর বয়সী নিশঙ্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন মন্ত্রীসভায় তিনি এখন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী। আগে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন প্রকাশ জাভড়েকর।

এ বার তিনি পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব। নিশঙ্কের এক সময়ের ‘মন্তব্য’ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লোকসভায় ‘দ্য স্কুল অব প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার’ বিল নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন তৎকালীন সাংসদ নিশঙ্ক বলেছিলেন, জ্যোতিষ চর্চা সব চেয়ে বড় বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের থেকেও এটা বড় বিষয়। আমাদের সত্যিই বিষয়টি নিয়ে প্রচার করা উচিত।

তিনি আরো বলেছিলেন, আমরা আজকাল পরমাণু বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু লক্ষ বছর আগেই কণাদ পরমাণু পরীক্ষা করেছিলেন। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জ্ঞানও অনেক দিন আগে থেকে রয়েছে আমাদের।

অবশ্য তিনিই প্রথম নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও শোনা গিয়েছিল সে কথা। মোদি বলেছিলেন, গণেশের মাথা প্লাস্টিক সার্জারিরই নিদর্শন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদি এক জায়গায় এ-ও লিখেছিলেন, প্রথম বিমান উড়িয়েছিলেন রাম।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ নয়া শিক্ষানীতির খসড়া প্রস্তাব তুলে দেওয়া হয় নিশঙ্কের হাতে। মোদি-জমানার প্রথম পাঁচ বছরে দিনের আলো দেখেনি ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’, যার দায়িত্বে রয়েছেন ইসরোর সাবেক প্রধান কে কস্তুরীরঙ্গন।

এদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতিকে বাস্তবায়িত করতে বরাবরই চাপ দিয়ে আসছেন সংঘ-প্রধান মোহন ভাগবত। বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার গৈরিকীকরণের জন্যই এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মোদি-সরকার। এই মুহূর্তে নিশঙ্কের উপরে বড় চাপ, আগামী একশ দিনের মধ্যে জাতীয় শিক্ষানীতিকে সামনে আনা।

পাশাপাশি, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে থমকে থাকা শিক্ষক-নিয়োগ প্রক্রিয়া তরান্বিত করা। ইউজিসি তুলে দিয়ে উচ্চশিক্ষা কমিশন গড়ার বিষয়েও চাপ থাকবে নিশঙ্কের ঘাড়ে। এ বিষয়ে রাজ্যগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারলেও অন্য রাজ্যগুলোতে নিশঙ্ককে বেগ পেতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।