বিজ্ঞানী হত্যার ‘জবাব’ শুরু ইরানের

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৭:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদের হত্যাকাণ্ডের পর ২০ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি আইন পাস করলো ইরান। আজ মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত বিলটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়া হয়। রেকর্ড পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের ইরানি এ পদক্ষেপ ফাখরিজাদে হত্যার জবাবে প্রতিশোধের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটা পরমাণু সমঝোতায় সই করা পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের এ আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থার বার্ষিক চাহিদা মেটানোর পরেও ২০ মাত্রার ১২০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব একেবারেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

আইনটিতে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একমাস সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ব্যর্থ হলে স্বপ্রণোদিত সকল প্রটোকল বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে তেহরান।

নতুন এ আইনে পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ উল্লেখ করে বলা হয়, ২০ মাত্রার ইউরেনিয়াম নিরবিচ্ছিন্ন ও অব্যাহতভাবে উৎপাদন ও মজুদ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ করতে বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরমাণু কেন্দ্রে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি

২০১৫ সালে ছয় জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া চুক্তিতে থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। ফের তেহরানের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। মার্কিন নির্বাচনের আগ-মুহূর্তেও এই ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরাজয়ের পর তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে সিনিয়র উপদেষ্টাদের বিরোধিতার মুখে তা থেকে বিরত হন ট্রাম্প।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জানায়, নাতাঞ্জে পরমাণু সমঝোতার বাইরে গিয়ে ১২গুণ বেশি ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’ মজুদ করেছে ইরান। এতদিন তেহরানকে চাপে রাখতে একই ধরনের অভিযোগ করে আসছে সমঝতোকারী অন্য দেশগুলো।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। তার সে পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করবে ইরানি বিজ্ঞানী হত্যার ঘটনাটি। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। যা উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরি করতে পারে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানের অদূরে দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ শহরের একটি সড়কে ফাখরিজাদেকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত ফাখরিজাদে ইরানের আমাদ (আশা) পরমাণু প্রকল্পের প্রধান ছিলেন, যা ২০০০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলসহ পশ্চিমাদের দাবি, এই সামরিক প্রকল্পে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার দাবি, ২০০৩ সাল পর্যন্ত গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরক তৈরির কৌশলগত কার্যক্রম চালিয়েছে ইরান। পরমাণু চুক্তির চেয়ে ১০ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ও মজুদ করছে দেশটি।

তবে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত দেশ ও সংস্থাগুলোর এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে তেহরান, বরং তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে বলে দাবি করছে ইরানি নেতারা।