বিজ্ঞাপনের মডেল কৃষ্ণাঙ্গ সমর্থক তারকা, জুতো পুড়িয়ে প্রতিবাদ!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৩৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘নাইক’ জুতো পুড়িয়ে প্রতিবাদ চলছে। শুধু জুতো পোড়ানোই নয়, বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করে দিচ্ছেন শেয়ার, উঠছে সেই জুতো বয়কট করার দাবিও।

পরিস্থিতি এতটাই জোরালো যে মঙ্গলবার বাজার বন্ধের সময় পৃথিবী বিখ্যাত ওই ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থার শেয়ারের দাম প্রায় চার শতাংশ পড়ে গেছে।

গত সোমবার ‘নাইক’ সংস্থার একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয় মার্কিন ফুটবল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিককে। তাকে নিয়ে আপত্তি অনেক মার্কিনির।

কারণ, ২০১৬ সালে ন্যাশনাল ফুটবল লিগে খেলার সময় জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হাঁটু গেড়ে বসে পড়তেন ক্যাপারনিক। দেশ জুড়ে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ওপর পুলিশি গুলি চালনার প্রতিবাদেই ওই ভঙ্গি করতেন তিনি। যা ভালো চোখে নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকেই। এই বিজ্ঞাপনেও ক্যাপারনিককে ব্যবহার করা ‘অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত’বলে টুইট করেছেন তিনি।

হাঁটু গেড়ে প্রতিবাদের পর দু’বছরে অবশ্য অনেকটাই বদলে গেছে ক্যাপারনিকের জীবন। তাকে বয়কট করেছে বেশির ভাগ মার্কিন ফুটবল ক্লাব। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপে তাকে বয়কট করেছে ন্যাশনাল ফুটবল লিগও।

একসময়ের প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়ের এখন আর কোনো ক্লাব নেই। বেকার দিন কাটে ক্যাপারনিকের। ঠিক এই সময়ই তাকে দিয়ে বিজ্ঞাপন করিয়ে পুরনো বিতর্কের পুনর্জন্ম দিল নাইক।

আসলে ঠিক এটাই চেয়েছিল ‘নাইক’। আপাতত ক্ষতির মুখোমুখি হলেও নিজেদের ব্র্যান্ডের এই পরিচিতিই তুলে ধরতে চেয়েছে তারা। তাদের স্লোগান ‘জাস্ট ডু ইট’-র সঙ্গে খাপ খায় ক্যাপারনিকের প্রতিবাদী ভঙ্গি। তাই সুপরিকল্পিতভাবেই নিজেদের ব্র্যান্ডের বিদ্রোহী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সফল নাইক। এমনটাই মনে করছেন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা।

জুতো পোড়ানো, বয়কটের স্লোগান, শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া চলছে পুরো দমে। আর একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে এখন একেবারে উপরের সারিতে উঠে এসেছে নাইক।

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘টকওয়াটার’ জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘন্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৭ লাখ বার ‘নাইক’ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। গত সপ্তাহের থেকে যা প্রায় ১৩৫ শতাংশ বেশি।

টুইটারে একটি জুতো পোড়ানোর ছবি ২০ হাজার বার শেয়ার করার ঘটনাও ঘটেছে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপন ঘিরে হুলুস্থুল সোশ্যাল মিডিয়ায়।