বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনের সময় কমছে যে কারণে

প্রকাশিত: ৫:২১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:২৫:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

বিদেশ থেকে আসা বিশেষ ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তবে এই দিনক্ষণ কমানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

কারণ বিদেশফেরতদের চাপ বাড়ছে। অনেকেই হোটেলে থাকতে চান না। তারা সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে যেতে চান। ফলে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। তাই কোয়ারেন্টিনের সময় ১৪ দিনের বদলে পাঁচ দিন করার চিন্তা করা হচ্ছে।

এর আগে ১৪ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরবর্তীতে প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করে ১৭ এপ্রিল থেকে ৫টি দেশে বিমান চলাচলের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয়, প্রবাসীরা সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারের পাশাপাশি চাইলে সরকার নির্ধারিত হোটেলেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে পারবেন।

সূত্র জানায়, রাজধানীর দিয়াবাড়ি ও হজ ক্যাম্পে সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে আবাসন সুবিধা সীমিত। এ কারণে চাপ সামলাতে বিদেশে বোর্ডিং কার্ড দেওয়ার আগে চেকিং করার সময়ই যাত্রীদের হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এবং বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ পৃথক পৃথক বার্তায় এয়ারলাইন্সগুলোকে এই নির্দেশনা দেয়। হোটেল বুকিং না করলে যাত্রীদের বোডিং কার্ড না দেওয়ার জন্য বলা হয়। জানা গেছে, বাধ্য হয়েই প্রবাসীরা হোটেল বুকিং দিয়ে দেশে আসছেন। তবে খরচ বেশি বলে তারা হোটেলের ভাড়া দিতে অপারগতার কথা জানান। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে কোনও কোনও যাত্রীকে হোটেল থেকে হজ ক্যাম্প ও দিয়াবাড়িতে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোয়ারেন্টিনের সময় কমাতে একটি প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শারজাহ বিমানবন্দর থেকে কয়েকজন প্রবাসী জানান, আমরা এ মুহূর্তে শারজাহ এয়ারপোর্টে আছি। হোটেল বুকিং ছাড়া কাউকেই বোডিং পাস দিচ্ছে না। ট্র্যাভেল এজেন্সি থেকে যখন টিকিট করি, তখন তারা বললো— ‘হোটেল বুকিংয়ের প্রয়োজন নেই। আপনি সরকারিভাবে সেনাবাহিনীর অধীনে কোয়ারেন্টিনে থাকতে পারবেন।’ তারা আরও জানান, আমাদের কাছে হোটেলের খরচ দেওয়ার মতো টাকাও নেই।

প্রবাসী আহমেদ পাপলু গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমারা বিপদে পড়েছি, এখন এয়ারপোর্টে। আমার কাছে অতো টাকা নেই। এখন কী করবো, বুঝতে পারছি না।’

এদিকে এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, হোটেলে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করায় যাত্রীদের নিয়ে তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই হোটেলে থাকতে চান না। তারা সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে যেতে চান। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে তথ্য না থাকলে তো আমরা যাত্রীদের বোর্ডিংও করতে পারছি না।