বিদ্যুতের বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহক হয়েও ব্যবহার করা হচ্ছে আবাসিক সংযোগ

আর্থিক লেনদেনর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগটি বহাল চলছে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

সোহেল মাহমুদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বিদ্যুতের মিডিয়াম-টেনশন গ্রাহক হয়েও দীর্ঘদিন ধরে লো-টেনশন সংযোগ ব্যবহার করছে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড়ের গোল্ডেন টাচ ও হালিশহর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সংলগ্ন প্রিন্স অফ চিটাগং কমিউনিটি সেন্টার।

বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহক হয়েও কম খরচের আবাসিক শ্রেণির এনার্জি মিটার ব্যবহার করার ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর মহাব্যবস্থাপক মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী পূর্বের নির্বাহী প্রকৌশলী ও লাইনম্যানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লো-টেনশনের সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারে বৈদ্যুতিক চাহিদা ৯৬ কিলোওয়াট/ঘণ্টা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী (মিডিয়াম-টেনশন) সংযোগ প্রয়োজন। কিন্তু তারা এখনো (লো-টেনশন) সংযোগের ই ক্যাটাগরিতে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করছেন।


নিম্নচাপ (লো টেনশন-এলটি) সিঙ্গেল ফেজ ২৩০ ভোল্টের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোড হচ্ছে ০ থেকে ৭.৫ কিলোওয়াট/ঘণ্টা এবং তিন ফেজ ৪০০ ভোল্টের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোড ০ থেকে ৮০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা।

মধ্যমচাপ (মিডিয়াম টেনশন-এমটি) এসি ১১ হাজার ভোল্টের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোড হচ্ছে ৫০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা এর অব্যবহিত উর্ধ্ব থেকে অনূর্ধ্ব ৫ মেগাওয়াট/ঘণ্ট এবং উচ্চচাপ (হাইটেনশন-এইচটি) এসি ৩৩ হাজার ভোল্টের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোড হচ্ছে ৫ মেগাওয়াট/ঘণ্টা এর অব্যবহিত উর্ধ্ব থেকে অনূর্ধ্ব ৩০ মেগাওয়াট/ঘণ্টা (২০ মেগাওয়াটের উপরে অবশ্যই ডাবল সার্কিট) পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রিন্স অফ চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে বিদ্যুতের চাহিদা অতিরিক্ত হওয়াতে এক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে দুই জনের (আবুল বশর ও আবু তাহের) নামে দুইটি আবাসিক শ্রেণির এনার্জি মিটার বসানো হয়েছে।

যা কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকতে ডানপাশে দেয়ালের সাথে লাগানো রয়েছে। কমিউনিটি সেন্টার দুটি আইএমএস গ্রুপের বলে জানা গেছে। এ নিয়ে গত বছরের (৬ মে) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রামপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো স্বাক্ষরিত প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টার বরাবর একটি প্রজ্ঞাপন প্রদান করেন।

প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, আপনার স্থাপনায় দুটি মিটারে ৯৬ কিঃওঃ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। যা- মধ্যমচাপ গ্রাহকের আওতায় পরে। ১৫ দিনের মধ্যে মদ্যমচাপ সংযোগ গ্রহণ করিতে হবে।

অন্যথায় বিদ্যুতের মূল্যহার নিয়মাবলীর ২৪.১.১ ও ২৪.১.৫ ধারা অনুযায়ী আবাসিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এছাড়াও বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অতিরিক্ত লোড ব্যবহারের কারণে বিতরণ লাইন ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইহার দায়-দায়িত্ব আপনাকে বহন করতে হবে। কিন্তু নোটিশ প্রদান করার এক বছর ৫ মাস অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করে পূর্বের লাইন বহাল তবিয়তে রেখেছেন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের গোল্ডেন টাচ কমিউনিটি সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগটিও একইভাবে চলছে। তবে গোল্ডেন টাচ কমিউনিটি সেন্টার অতিরিক্ত লোডের কারণে নিজ উদ্যোগে একটি সাবস্টেশন এবং উচ্চচাপের সংযোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন ইমাম। তিনি জানান, তারা নতুন ট্রান্সফরমার বসিয়েছেন। শীঘ্রই তাদের নতুন সংযোগের কাজ শুরু হবে।

প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারে নিম্নচাপ ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, লাইন দেয়া না দেয়ার বিষয়টি দেখবে পিডিবি। তারা যেভাবে করতে বলবেন আমরা সেভাবে করব।


আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এসব বিষয়ে কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি। এগুলো সব ভুয়া কথা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোল্ডেন টাচ ও প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী আবুল বশর আবু দি বাংলাদেশ টুডেকে বলেন, বিদ্যুৎ অফিস টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না। প্রতিটি কাজে ঘুষ না পেলে তারা কোন কাজ করেন না। বিদ্যুতের সাবস্টেশন করলে আমার আরো অনেক টাকা বেচে যেতো।

কিন্তু তারা টাকা খাওয়ার জন্য কিছু করছে না। তাই বলি এদেশ কখনো ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, আপনার যা ইচ্ছা তা লিখুন, আমার কিছু হবে না। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ হালিশহর রামপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত কান্তি দে দি বাংলাদেশ টুডে’কে জানান, আমি মাত্র নতুন এসেছি। কোন গ্রাহক কোন লাইন বা কোন চাপ ব্যবহার করেন তা আমি এখনো জানি না।

যদি কেউ অনৈতিক লেনদেন করে থাকেন, তবে আমি ছাড় দিবো না। প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলছি। আপনার কথার সত্যতা প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।