বিপাকে পড়েছেন কানাডীয় হাজী ও সৌদি শিক্ষার্থীরা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

কানাডা-সৌদি কূটনৈতিক বিরোধের জেরে বিপাকে পড়েছেন কানাডীয় হাজী ও সৌদি আরবের শিক্ষার্থী। কানাডার যেসব মুসলমান সৌদি আরবে হজ্জ করতে গেছেন তাদের দেশে ফেরা বিলম্বিত হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের যেসব শিক্ষার্থী কানাডায় পড়তে গিয়েছিলেন তাদের দেশে ফিরে যেতে হবে দ্রুত। দেশে ফিরতে একমাসের সময় বেঁধে দিয়েছে সৌদি আরব।

কূটনৈতিক সংকট কাটাতে কানাডা তার মিত্রদের কাছে অনুরোধ করেছে মধ্যস্থতার জন্য। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবতা নতুন করে ভাবাচ্ছে কানাডাকে।সোউদিয়া কানাডায় ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে

পয়লা আগস্ট ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছিল, সৌদি আরব কয়েকজন অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ছিলেন সৌদি আরবের নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রখ্যাত নেত্রী সামার বাদাউই।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুক্রবার অপরাপর অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সামার বাদুউইয়ের ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দাবি করেছিল কানাডা। কানাডার এই ‘অবিলম্বে মুক্তির দাবি’ ভালো লাগেনি সৌদি আরবের।

কানাডার আহ্বানের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব বলেছিল, ‘কানাডার বক্তব্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোলাখুলি হস্তক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও বিধির খেলাপ। কানাডীয় বিবৃতিতে যে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক।

এক দেশের প্রতি আরেক দেশের দেওয়া বক্তব্যে যে ধরণের ভাষা ব্যবহৃত হওয়ার কথা কানাডার ভাষা সেই তুলনায় নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’

এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কানাডায় নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের পাশাপাশি সৌদি আরব কানাডার সঙ্গে থাকা শিক্ষা বিষয়ক চুক্তিও বাতিল করেছে।

সৌদি আরবের বৃত্তিতে কানাডায় পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অন্য দেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কানাডার সঙ্গে থাকা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সমঝোতাও স্থগিত করেছে সৌদি আরব। কানাডা–সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিও স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের যেসব শিক্ষার্থী কানাডা থেকে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের মধ্যে ব্যবহৃত আসবাবপত্র বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। কানাডায় উম্মাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত গাড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ ইওসুরি বলেছেন, ‘এসব শিক্ষার্থীদের অনেকে মাত্র এক সপ্তাহ আগে কানাডায় এসেছে। এখন তাদেরকে আবার দেশে ফেরত যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছিল।

এখন সেখান থেকে তাদেরকে ফেরত আসতে হয়েছে কানাডায় থাকা জিনিসপত্র বিক্রি করার জন্য।’ জুনের শেষের দিকে কানাডায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করা সৌদি আরবের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার ১০০ জন।

কানাডার অনেক মুসলমান হজ্জে যাওয়া ও কানাডায় ফেরার জন্য সৌদি আরবের পতাকাবাহী বিমান সৌদিয়াতে টিকিট কেটেছিলেন। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সৌদিয়ার বিমানে করে কানাডায় যেতে কোনও সমস্যা না হলেও এর পর থেকে কানাডায় সৌদিয়ার ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জাওয়াদ চৌধুরী নামের হ্যামিলটনের একজন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ীর মা হজ্জ করতে সৌদি আরব গেছেন। এখন তিনি কিভাবে কানাডায় ফিরবেন তা নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন জাওয়াদ।

এদিকে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, কানাডা সংকট নিরসনে জার্মানি, সুইডেন, আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে। কানাডা নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে তার সবচেয়ে বড় মিত্রের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা রোল্যান্ড প্যারিস মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বর আভাস পাচ্ছি যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের পক্ষে সবচেয়ে সরব কণ্ঠস্বর নয়।’ কিন্তু কানাডা সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে সে বিষয়ে কানাডার ‘ফেডারেল লিবারেল পার্টির’ বব রে মন্তব্য করেছেন, মানবাধিকার প্রশ্নে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে কানাডার আরও কৌশলী হওয়া উচিত।