বিপিএলে ২১ উইকেট নেয়ার পরই আমাকে বাদ দেয়া হয়েছিল : আমির

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১ | আপডেট: ১২:৩৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

প্রধান কোচ মিসবাহ-উল-হক, বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনিসদের নিয়ে গড়া পাকিস্তানের কোচিং প্যানেলের কাছে ‘মানসিক অত্যাচারে’র শিকার হচ্ছেন জানিয়ে গত মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন আমির।

অথচ বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের বয়স এখনো মাত্র ২৮! অবসরের সিদ্ধান্তে জানিয়ে দেন, এই প্রশাসনের অধীনে পাকিস্তানের জার্সিতে খেলা সম্ভব না।

এরপর থেকে আমিরের সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে তো কথা চলছেই, কাদা–ছোড়াছুড়িও চলছে সমান্তরালে। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে পাকিস্তানে ফেরার পর কাল মিসবাহ এ নিয়ে কথা বলেছিলেন।

উত্তরসূরীর কাছ থেকে এমন সমালোচনা শুনে কষ্ট পেয়েছেন ওয়াকার। মিসবাহ উল্টো আমিরকেই সব দায় দিয়েছেন। পাকিস্তান কোচ জানান, বাঁহাতি এই পেসারের বাদ পড়ার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো ইস্যু নেই, বরং পারফরম্যান্সের কারণেই জায়গা হারিয়েছেন।

এবার ওয়াকার-মিসবাহ দুজনকেই পাল্টা দিলেন আমির। ওয়াকার কষ্ট পাওয়ায় নাকি তার ভালো লাগছে। পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন, মিসবাহর এমন যুক্তিও হাস্যকর লাগছে সদ্য সাবেক হওয়া পাকিস্তানি গতিতারকার।

ড্রেসিংরুমে তারা ভীতি জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন দাবি করে আমির বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কিছু জায়গা এবং স্বাধীনতা দিন। ড্রেসিংরুমে এই ভীতি জাগানিয়া পরিবেশের ইতি টানুন। তাহলে এই খেলোয়াড়রাই আপনাকে ম্যাচ জেতাবে।’

বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই বাদ দেয়া হয়েছে, মিসবাহর এমন যুক্তির জবাবে সাবেক এই গতিতারকা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ২১ উইকেট নেওয়ার পরের ম্যাচেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এটা যদি ব্যক্তিগত ইস্যু না হয়, তাহলে কোনটি?’

মিসবাহ আমিরকে বাদ দেয়ার পেছনে গতি কমে যাওয়াকেও বড় একটা কারণ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু একেও খোঁড়া যুক্তি মনে করছেন আমির। তিনি বলেন, ‘আমার গতি কিছুটা কমে গিয়েছিল কারণ আমি পুরোপুরি ফিট ছিলাম না। অবসাদে ভুগছিলাম। যখন আমি লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে যাই, উজ্জীবিত ছিলাম, আমি কিন্তু ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করেছি।’

এখানেই শেষ নয়। মিসবাহ আর ওয়াকারের কোচিং করানোর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বসেছেন ২৮ বছর বয়সী আমির। দুই কোচ দুই রকম কথা বলে খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করেন, এমন অভিযোগও তুললেন এই পেসার।

আমিরের ভাষায়, ‘এক কোচ বলেন, গতি কোনো ব্যাপার নয়, (প্রতিপক্ষের) ২০ উইকেট নেয়াই আসল ব্যাপার। আরেক কোচ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কার কথা বিশ্বাস করব? প্রথমে চিন্তা করুন কি বলতে চান, তারপর আমিরকে শেখাতে আসবেন।’

এমনই খেপেছেন, পূর্বসূরী ও কোচ ওয়াকারের কষ্টেও আনন্দ লাগছে আমিরের। তিনি বলেন, ‘আমার ভালো লাগছে তিনি (ওয়াকার) কষ্ট পেয়েছেন, বেদনা বোধ করছেন। অন্ততপক্ষে এখন তিনি বুঝতে পারবেন, কারও কথা কেমন কষ্ট দিতে পারে। টেস্ট থেকে অবসরের পর আমাকে নিয়ে তিনি যা বলেছেন, আমার কেমন লেগেছিল!’

আমিরের শেষ কথা, বড়দের নিয়ে যা বলেছেন, তাতে কোনো অনুশোচনাও নেই। বরং তিনি বললেন, ‘আমি তো ভুল কিছু বলিনি। আমি শুধু সত্যটা জানিয়েছি, তার বাইরে কিছু নয়।’