বিবেকহীনতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

যখন নিগূড়িত রহস্যকে উস্কে দিয়ে অত্যান্ত আগ্রহী হয়ে জানতে চেয়েছি বুক প্রসারিত করে। কে আমি? যখন আমি বাঙালী মায়ের মায়াবী আঁচল এড়িয়ে তাকিয়ে ছিলাম ওপারে উর্দ্ধ আকাশের দিকে । ঠিক তখনি এক চাতক পাখি ঘোর অমানিষায় একটুকরো জোনাকির প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে দিব্য দুয়ারে অন্ধকার নিয়ে।

সে ও ধিক্কার দিয়ে বলছে “কে তুমি”? তখন সরল আত্মা নিগূড়িত রহস্যের প্রশ্নকে ভেঙ্গে দিয়ে অধীরে উত্তরিল, “আমি মানুষ “। আচ্ছা মানলাম, আমি বা আমরা মনুষ।কিন্ত মানুষ হিসেবে যা করণীয় তা কি করছি? কেন মানুষ হয়ে জন্ম নিলাম? কি উদ্দেশ্যে শ্রেষ্ঠ জীবের ? এইতো সম্প্রতি কয়েকটা ঘটনা আমার না শুধু সবার ই গোটা শুদ্ধ মনুষ্যত্বের নরম গালে বিবেকহীনতার চপেটাঘাত।।

রিফাত হত্যা, শহীদ বুলবুল কলেজে শিক্ষক লাঞ্ছিত,আরো কতশত ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখছি প্রতিনিয়ত।যাক ঐগুলো না বলি। এইবার আসি নিজ গন্ডিতে।

ঘটনা-১ : উল্লেখ্য পত্রিকা সূত্রে জানতে পারলাম সদ্য ঘটিত, আমাদের শান্তির নগরী নামে খ্যাত রাজশাহীর অত্যন্ত জনবহুল মণিচত্তর এলাকায় রুয়েটের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক পর্যন্ত পর্যদুস্ত‌।নিজ স্ত্রী কে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হচ্ছেন। চারিদিকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের অভাব নেই!

নাহ!নেই! নির্লজ্জতা কোনঠাসা করে রেখেছিল সবাইকে! শ্রেষ্ঠ জীবের অভাব ছিলনা সেখানে। কিন্তু অভাব ছিল শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের।

সেখানে নাকি নিরব দর্শকের ভূমিকায় সবাই। চারিদিকে অন্ধকার নয় স্বচ্ছ আলো বিরাজমান। কিন্তু অভাব ছিল মনুষ্যত্বের টিমটিমে আলোর।

চাক্ষুষ ঘটনা-২ : ঈদের ছুটিতে বাড়িতে অবস্থান। সারাদিন বাড়ির বাইরে না গেলেও গৌধূলিবেলায় বের হই। তাই ঈদের আগের দিন নিয়ম করেই সন্ধ্যা অন্তে ৪-৫ মিনিটের পথ হেঁটে মোড়ের দিকে যাচ্ছি। চোখের সামনে দেখছি দুই দুইজন দুইটা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ হাতে নিয়ে একে অপরের শার্টের কলার ধরে বাক-বিতন্ডায় চরম উত্তেজিত। আশেপাশে ভিড় জনতা।জনতা না ঠিক। ঐ যে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।

আমি একজনের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগলে।নব্য মোড়ল টাইপের এক লোক ঠাস করে ধমকের সুরে বলে ফেলল,”যা হচ্ছে হতে দাও”।ওগ্লা সাহস ভার্সিটি তে দেখিও। এখানে না।

আফসোস!ঐটা স্রেফ গ্রাম। শহরতলী না। ঐখানেও এই অবস্থা। শুধু গ্রাম,শহর,প্রতিষ্ঠানেই নয়, অতি আধুনিকতা, যান্ত্রিকতায় মনুষ্যত্বের মুমূর্ষু এই অবস্থায় সম্প্রতি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছি সারা সমাজ,সারা দেশ তথা পুরো দেশেই। আজ আমি আপনি দেখেই ক্ষান্ত হচ্ছি। কাল ঘটনাক্রমে আমার-আপনার সাথেও ঘটবে।তাহলে!

কেন এই সাহায্যহীনতা?
কেন এই নির্মমতা?
কেন এই নির্দয়তা?
আজ এর উত্তরণ আদৌ কি আমার আপনার মনুষ্যত্ব নামক বিশ্বকোষে আছে?
তাহলে কোথায় শ্রেষ্ঠ আমি আপনি ? কোথায় মানবতা?
কোথায় আজ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব? নাকি নেই?
নাকি যা আছে তা তলানীবিহীন পাত্রে অনিঃশেষ তরল জমানোর ব্যর্থ চেষ্টা!!

লেখক: খাইরুল ইসলাম দুখু
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।