বিভাগ সভাপতির কক্ষে শুয়ে-বসে পরীক্ষা দিলেন সেই হাতুড়িপেটা তরিকুল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হাতুড়িপেটায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলাম তার মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় দেওয়ার অনুমতি পাননি। তাই বিভাগ সভাপতির কক্ষে শুয়ে-বসেই পরীক্ষা দিলেন তিনি।

বুধবার তার ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। তবে শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভালো না হওয়ার পরও তাকে বিভাগে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তিনি বিশেষ ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ সে সুবিধা দেয়নি।

এ বিষয়ে তরিকুল জানান, বাধ্য হয়ে বিভাগেই পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে বিভাগের সহযোগিতায় সভাপতির কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চার ঘণ্টার পরীক্ষা তার পক্ষে বসে থেকে দেওয়া সম্ভব হতো না। এতে বিভাগের সভাপতি ও অন্য শিক্ষকরা সাহায্য-সহযোগিতা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম বলেন, তরিকুল চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধার জন্য আবেদন করেছিল। তবে বিশেষভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে চিকিৎসাকেন্দ্রের একটা নিয়ম আছে। বিশেষ করে যারা ছোঁয়াচে রোগী, তারা মেডিকেলে বসে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তরিকুল ছোঁয়াচে রোগী না হওয়ায় অনুমতি পায়নি।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, তরিকুলের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো লক্ষ্য করলাম। তবে একা হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয় তার। তার পরও অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো সে পরীক্ষা দিতে এসেছে। তবে আমিও সুপারিশ করেছিলাম, যাতে সে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে পতাকা মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের মধ্যে তরিকুলকে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রামদা, হাতুড়ি, লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। আঘাতে তরিকুলের ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া হাতুড়ির আঘাতে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়।