বিভিন্ন প্রকল্পে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ারের দুর্নীতি চরমে

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মোঃ সাদিক-উর রহমান শাহ্ (স্কলার), নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার ভূমি হুকুম দখল (এল.এ.ও) শাখায় বিভিন্ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহনে ব্যাপক অনিময়, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পেছনে সার্ভেয়ার আব্দুস সালাম প্রায় দুই বছর ধরে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে থাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসনের এটাই নজীরবিহীন ঘটনা। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের কালো বিড়াল। জনাব আব্দুস সালামের কৃত অনিয়ম গুলোর মধ্যে যেমন শ্রেণি পরিবর্তন অন্যতম, ভূমির প্রকৃত মালিককে উপেক্ষা করে জবর দখলকরী মালিককে বেশি অর্থ পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন, উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় (এল.ও) পেমেন্ট প্রদান নক্সা বহির্ভূত আবাসিক ভবন গুলোকে সুকেীশলে নক্সার মধ্য দেখিয়ে ভবন মালিক গুলোর কাছ থেকে মোট অংকের অর্থ লেনদেন উপরের অনিয়ম গুলোর মধ্যে উদাহরন স্বরুপ।

জালিয়াতির মাধ্যমে সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকলে্পর কাজে একটি জুট মিলকে নক্সা বহিভূত ভাবে অধিগ্রহণ দেখিয়ে। যাহা অধিগ্রহণের আওতায় পড়ে না কিন্তু সার্ভেয়ার আব্দুস সালাম সাহেব ও নক্সাকারক আব্দুল বাতেন গোপনে জুট মিলের মালিকের সাথে আতাত করে। ইকু জুট মিল কে ৩ (তিন) ফটু জায়গা অধিগ্রহণ দেখিয়ে ৯ (নয়) কোটি টাকার বেশি বিল তৈরী করে, সেখান থেকে আব্দুস সালাম সাহেব ও আব্দুল বাতেন ৩ (তিন) কোটি টাকা ভাগ করে নেয়।

যাহা ঢাকা ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখা থেকে গত ০৮/০১/২০১৯ই ও ১৪/০১/২০১৯ইং তারিখে সন্ধ্যা ৬.০০টায় বাতেন ও তার ছেলে রাজিব সহ ইকু জুট মিলের মালিকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে। যাহা উক্ত তারিখের ব্যাংক সিসি টিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া যাবে। তাদের আরও দূর্নীতির কাহিনীর বিভিন্ন প্রমান আছে যেমন মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ারের কবরস্থান অধিগ্রহনের টাকা আটকিয়ে রাখে পরে ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা নিয়ে সালাম ও বাতেন তাদের বিল দেয়।

ঢেলাপীরের মরিয়ম বেগম বেবী নামক এক অবকাঠামোর ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা থেকে সালাম ও বাতেন ২০ লক্ষ করে ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে বিল প্রদান করে। মোঃ বাবু পিতা ফরহাদ হোসেন গ্রাম কাদিখোলা ঢেলাপীর। বাবু সাহেব ভূমি ও অবকাঠামোর মালিক উপেক্ষা করে জবর দখলকরী মালিককে বেশি অর্থ পাইয়ে দেয় সালাম , এল.এ কেস নং ০৩/১৭-১৮ এর মাধ্যমে ডিমলা উপজেলার বাবুর হাট মৌজার ৯৪০ দাগে ০.১৫ একর জমির মধ্যে ০.১২ একর জমি মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভবনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।

জমির মালিককে অধিগ্রহন অধিগ্রহণ কৃত জমির ক্ষতিপূরন প্রদানের পর ২৪/০৯/২০১৮ ইং তারিখে এল.এ শাখার কর্মরত সার্ভেয়ার আব্দুস সালাম সহ অন্যান্যরা অধিগ্রহন কৃত ০.১২ একর জমির দখল বুঝে নেন। অবশিষ্ট ০.০৩ একর জমি যার কাছ থেকে ০.১২ একর কাছ থেকে অধিগ্রহন করা হয় তার নামে যাকে কিন্তু ওই জোতে পূর্বে বসবাসকারী ব্যক্তিবর্গের ঘড়বাড়ী।

গাছপালা সারানোর জন্য ক্ষতিপূরন বাবদ ৪,১৩,০৬০/০০ টাকা প্রদান করে এবং প্রতিটি স্থাপনার বিল থেকে ২৫%-৫০% টাকা নিয়ে সালাম ও বাতেন তাদের বিল প্রদান করে, যদি কেউ টাকা দিতে অপারগতা শিকার করে হলে তাদের মাপ মেজারমেন্ট বহিতে সঠিক ভাবে তুলেতেন না। এমন অনেক উধারন আছে যে এমন কোন ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের কাছ থেকে সালাম ও বাতেন টাকা নেয় নাই।

সালাম সাহেব বাতেনের বড় হওয়াতে অধিকাংশ টাকা বাতেন কালেকশন করতেন। সালাম স্বাক্ষর দেওয়ার আগে তার ভাগের অংশের টাকা বুঝিয়ে নিয়ে স্বাক্ষর করতেন। বাতেন টাকা কালেকশন করার কারনে সারা নীলফামারী ও জাতীয় পত্রিকা টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলে ভূমি মন্ত্রানালয় থেকে আব্দুল বাতেনকে নীলফামারী হতে ঠাকুরগাও এ বদলী করা হয়।

দুদক তার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেয় কিন্তু মুল ক্ষমতাধর আব্দুস সালাম এখনো বিভিন্ন দূর্নীতি করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগনের দাবী বাতেন এর সাজা হলে , সালামের কেন নয়। সালাম সাহেবের খুটির জোর কোথায়। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন বিষয় টি তদন্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া হবে।