বিলুপ্ত প্রজাতির নীল গাইটির ঠাঁই হয়েছে রামসাগরে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৪:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮

ঠাকুরগাঁওয়ে পাওয়া বিলুপ্ত প্রজাতির নীল গাইটির আশ্রয় মিলেছে দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায়। অসুস্থ হওয়ায় তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

ভারতের বনাঞ্চল থেকে আসা প্রাণীটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের যদুয়ার গ্রামে ভারতীয় সীমান্তরেখা বরাবর কুলিক নদীতে এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন প্রাণীটিকে উদ্ধার করে রামসাগর জাতীয় উদ্যানে পাঠায়। হরিণ বিশেষ প্রজাতির প্রাণীটি বর্তমানে থাকছে হরিণের সাথে। গ্রামবাসী কর্তৃক আহত হওয়ায় প্রাণীটিকে চিকিৎসা দিচ্ছে প্রাণীসম্পদ বিভাগ।

বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রাণীটি হরিণ বিশেষ প্রজাতির নীল গাই বলে নিশ্চিত হয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বর্তমানে তার গর্ভে বাচ্চা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম জানান, গ্রামবাসী কর্তৃক আটক হওয়া প্রাণীটির আঘাতজনিত কারনে জিহ্বা ও মুখ গহ্বর কেটে গেছে। ভারত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসাতে প্রাণিটি ক্লান্ত ছিল এবং ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরে পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

প্রাণীটিকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে দুই হাজার সিসি স্যালাইন দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আশঙ্কামুক্ত তবে প্রাণিটির বিষয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রাণীটির গর্ভে বাচ্চা রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই নীল গাইটি বাচ্চা প্রসব করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীটিকে দেখতে আসছেন অনেকেই। পাঠ্যপুস্তকে পড়লেও বাস্তবে অজানা এই প্রাণীটিকে ঘিরে আগ্রহ ও অন্যরকম অনুভূতি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী আয়েশা বলেন, পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি নীল গাই সম্পর্কে। তাই খবর পেয়েই ছুটে এসেছি বাস্তবে এই প্রাণীটিকে দেখতে। নীল গাই নাম হলেও প্রাণিটি মোটেও নীল নয় এটা ভিন্ন রকম নামকরণ।

শিক্ষার্থী রিমি রায় বলেন, পাঠ্যপুস্তুকে পড়লেও বাংলাদেশে এই প্রাণিটি দেখতে পাওয়া যাবে তা হয়তো আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। তাই এক অন্যরকম অনুভুতি হচ্ছে প্রাণিটিকে দেখতে পেয়ে।

দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা ও রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালাম তুহিন জানান, নীল গাই বিরল প্রজাতির বাংলাদেশে বিলুপ্ত বন্য প্রানী। প্রাণিটি গাই হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মোটেও গরু শ্রেণীর নয়, বরং এটি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় হরিণ বিশেষ প্রাণী। এর বিজ্ঞানিক নাম ‘বোসেলাফাস ট্র্যাগোকামেলাস’।

তিনি বলেন, একশ’ বছর আগে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নীল গাই দেখা যেতো। এখন আর বাংলাদেশে নীল গাই পাওয়া যায় না। তবে প্রায় ১৯৪০ সালের দিকে পঞ্চগড়ে একবার নীল গাই দেখা গিয়েছিল। এরপরে বাংলাদেশে আরও কোথাও নীল গাই দেখতে পাওয়া যায়নি।

এই কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় উদ্যানে এই নীল গাইটিকে রাখা হতে পারে। প্রধান বন সংরক্ষককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কোনভাবেই নীল গাইটির যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।