বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে আ. লীগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩৯:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দলের বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। কোন্দল নিরসনে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতিমধ্যে দুই জন কেন্দ্রীয় নেতা ও তিন জন সংসদ সদস্যসহ দলের এক ডজনেরও বেশী নেতাকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে গত ১০ সেপ্টেম্বর দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে অভিযুক্তদের কাছে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এসব শোকজ নোটিশ কুরিয়ার যোগে পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করাসহ সারাদেশেই সফর করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপরেও কিছু কিছু এলাকায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসলে অভিযুক্ত নেতাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করার কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এতেও কাজ না হওয়ায় অবশেষে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বা দল থেকে বহিস্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে এ শোকজ করা হয়েছে। দলের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলের কেন্দ্রীয় দু’জন নেতাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ দু’জন কেন্দ্রীয় নেতা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সদস্য বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান।

কারণ দর্শানোর নোটিশ নিয়ে সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয়েছেন দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য দিনাজপুরের মনোরঞ্জন শীল গোপাল, রাজশাহীর আব্দুল ওয়াদুদ ও বরগুনা থেকে নির্বাচিত ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এই তিনজনকে দেয়া শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে- তারা দলীয় ঐক্য, সংহতি, সম্প্রীতি, আনুগত্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করেছেন কিনা, এ বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায় দলের তিনজন সংসদ সদস্য ও দু’জন কেন্দ্রীয় নেতাসহ তৃণমূলের মোট ১৪ জনকে এ শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। তবে দলের অপর একটি সূত্র জানায় দলের ১৬ নেতাকে এ শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগ আরো জমা হয়েছে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। গুরুতর হলে সামনে আরো কিছু নেতাকে এ শোকজ করা হতে পারে। জানা গেছে, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, সিলেট নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দীন, সিলেট মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক মামুন, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বীরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকী নাদেল ও বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের দু’জন কেন্দ্রীয় নেতা ও তিনজন সংসদ সদস্যসহ তৃণমূলের এসব নেতাকে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দেয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক সুশৃঙ্খল, অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে ঐক্যবব্ধ। এখন নির্বাচন আসছে, নির্বাচনের জন্য অনেকেই আশা আছে, আকাঙ্ক্ষা আছে। আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে প্রতিযোগিতা থাকবেই। এখানে আমরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা করতে দেব না।

তিনি বলেন ট্রেনে করে উত্তরবঙ্গ সফরে ১৮টি সমাবেশের কোথায় অন্তর্কোন্দল দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা মনে করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই হেরেছেন। তাকে দেয়া শোকজ নোটিশেও সেই ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে বদর উদ্দিন কামরান সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার কারণ হিসাবে দেখা হয় নির্বাচনে আগে সাতটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে না পারার ব্যর্থতা, সিলেট মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারা ও সিলেট মহানগরে আওয়ামী লীগের কার্যালয় না থাকা।

এ নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজকে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ তৃণমূলের এক ডজনেরও বেশী নেতাদের শোকজ নোটিশ দেয়ার বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে দলের তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। কোন কোন এমপির বিরুদ্ধে তার নির্বাচনী এলাকায় ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে দুরে ঠেলে দেয়াসহ কর্মী নির্যাতনের অভিযোগও আসছে। এমতাবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপিত হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

সন্তোষজনক জবাব না পেলে বহিষ্কারের মত সিদ্ধান্তও হতে পারে। নেতারা মনে করেন দলের যেসব নেতার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদেরকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কেন্দ্র থেকে নির্দেশনাও পাঠানো হতে পারে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা খারাপ কিছু নয়। তবে নেতৃত্ব পেতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ-বিভাজন ভালো নয়।