‘বিশ্বাসঘাতকতায়’ই সিলেটে হার, রেহাই নেই কারো : কাদের

প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ২:৪৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

সিলেটে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের পরাজয় দলের ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতায় হয়েছে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

ভোটের এক মাস পর দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলর মহানগরটিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের কেউ রেহাই পাবে না।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন কাদের।

চলতি বছর দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্যে একমাত্র সিলেটে হেরেছে আওয়ামী লীগ। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে পাঁচ সিটি নির্বাচনে হারলেও এবার খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের দখল ফিরে পেয়েছে দলটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় এমনি-এমনি হয়নি। দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নৌকাকে ডুবিয়েছে।’

‘এ নিয়ে কেন্দ্রে অনেক অভিযোগ পড়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই আমরা সিলেটে এসেছি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। বিশ্বাসঘাতক কেউই রেহাই পাবেন না।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন পরীক্ষামুলকভাবে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করেছে। এতে ভোটগ্রহণ যেমন সুবিধাজনক হয়েছে তেমনি গণনাও সহজ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ফলাফল জানা যাচ্ছে।’

বিএনপি ভোটে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধী। তাদের দাবি, এই যন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব। আর আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় আনতেই এর ব্যবহার করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের আপত্তির মধ্যেই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনে সংশোধনীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

ইভিএমের বিরোধিতাকারী বিএনপি নেতাদেরকে কাদের বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের তিন সিটির একটিতে (সিলেট) আপনাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। তবে, ইভিএম নিয়ে এত কথা কেন? আপনারা আসলে কী চান?’

কারচুপি করার ইচ্ছা থাকলে সিলেটে মেয়র পদে আওয়ামী লীগকে এত কম ভোটে পরাজিত হতে হতো না-এই বিষয়টিও জানিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘এটা শেখ হাসিনার নির্দেশ। অনিয়ম কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোন ইচ্ছা বা অভিলাষ আমাদের নেই।’

২০০১ সালের মত কোনো নির্বাচন এদেশে আর হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাই কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। জনগণ ভোট দিয়েই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৩০ জুলাইয়ের ভোটে পরাজিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্ব ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সদস্য রফিকুর রহমান।

সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।