বিশ্বের অন্যতম লম্বা মানুষ কক্সবাজারের জিন্নাত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৫৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়েঃ কক্সবাজারের জিন্নাত আলী বর্তমানে বেঁচে থাকা মানুষের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম লম্বা মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার উচ্চতা ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি। সে রামু উপজেলার গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের আমির হামজা ও শাহপুরি বেগমের সন্তান। বর্তমানে তার বয়স ২২ বছর।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১১ বছর আগে হঠাৎ করে তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। যা এখনো অব্যাহত আছে। আর তাই জিন্নাত আলীর উচ্চতা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জিন্নাত আলীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না হলেও তার জন্য ঘরের উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত লম্বা হওয়ার কারণে তেমন কোনো কাজ করতেও পারছে না।

জানা গেছে, অতিরিক্ত লম্বা হওয়ায় তাকে ঘর থেকে বের হতে দিত না মা-বাবা। ফলে বিশ্বের অন্যতম লম্বা মানুষ যে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আছে তা প্রকাশ পায়নি এতোদিন।

জিন্নাত আলীর বাবা আমির হামজা পাহাড় থেকে বাঁশ কেটে সংসার চালাত। এখন তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছেন। সংসার চালানোর ভার পড়েছে তার বড় ভাই দিনমজুর ইলিয়াছের উপর। কিন্তু ইলিয়াছের স্ত্রী সন্তান রয়েছে। তার পক্ষে মা, বাবা, ভাই ও নিজের পরিবারের সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জিন্নাত আলীর প্রতিবেলায় খাবার লাগে এক কেজির উপর। তার মাপ অনুযায়ী বাজারে পোশাক না থাকায় তা অতিরিক্ত খরচ দিয়ে তৈরি করতে হয়। এ অবস্থায় দিনমজুর ভাই ইলিয়াছ আলী অর্থের অভাবে ভাইয়ের জন্য এসব কিছু যোগাড় করতে পারছে না বলে জানান।

‘ভাই এখন আর আমি কোনো ছবি তুলবো না। আমি দাঁড়াবো না, কোনো ছবি তুলবো না। আমাকে অনুরোধ করলেও ছবি তুলবো না। জীবনে অনেক ছবি তুলেছি, আর না।’ বিশ্বের দীর্ঘ লম্বা মানুষ জিন্নাত আলীর ছবি তুলতে চাইলে তিনি এমন আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন।

কেন তিনি ছবি তুলতে চান না জানতে চাইলে তার একমাত্র দিনমজুর বড় ভাই মো. ইলিয়াছ আলী বলেন, তাকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকে বহুবার ছবি তুলেছে। ছবি তোলার সময় তাকে বলা হয়েছিল, তার দায়িত্ব যেন সরকার নেয় সেই ব্যবস্থা করা হবে, তাকে প্রতিমাসে আর্থিক সাহায্য করা হবে, তার চিকিৎসা করা হবে, তাকে সমাজ সেবার মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবন্ধীভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

এভাবে অনেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছবি তুললেও এখন পর্যন্ত কেউ কথা রাখেননি। ফলে তার কাছে কারো প্রতিশ্রুতির বিশ্বাস নেই। তাই ছবি তুলতে চায় না। তার মনের আক্ষেপ প্রকাশ করা হবে জানালে ছবি তোলার অনুরোধ করলে তিনি অনুরোধ রাখেন।

জিন্নাত আলী অসুস্থ্ হয়ে এখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি। তার চিকিৎসার জন্য ঘরে থাকা ছাগলটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখন ছাগল বিক্রির সেই টাকাও খরচ হয়ে গেছে। চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে পারছে না তার ভাই দিনমজুর ইলিয়াছ আলী।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. পু চ নু জানান, জিন্নাত আলীর শরীরের হরমনের কারণে তার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। তা এখনো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন জিন্নাত আলী। ক্রমান্বয়ে পা ফুলে যাচ্ছে।

জিন্নাত আলী স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করতে চায়। সে বাঁচতে চায়। তার সুচিকিৎসা হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে-এমন আশাবাদি জিন্নাত আলী সবার সহযোগিাতা কামনা করেছেন।

জিন্নাত আলীর জীবনের ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম তার পিতা আমির হামজা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।