বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিচ্ছে বাবা-মেয়ের যে ছবি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৩৭:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯
ছবি: সিএনএন

মনে আছে সিরিয়ার তিন বছর বয়সী শিশু শরণার্থী আয়লান কুর্দির কথা? কিংবা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে গ্রিসের কস দ্বীপে যাওয়ার পথে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আয়লানের পাঁচ বছর বয়সী অপর সেই ভাইয়ের কথা?

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল আয়লান ও তার পাঁচ বছর বয়সী ভাই। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আশ্রয়ের আশায় যেতে চেয়েছিল গ্রিসে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি তারা। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আয়লানসহ ১২ সিরিয়ান শরণার্থী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তুরস্কের বোদরাম সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসে আয়লান কুর্দির নিথর মরদেহ। নির্মম এ ঘটনায় তার আরেক ভাইয়ের (পাঁচ বছর) মৃতদেহও ভেসে উঠে সাগরের অন্য পাড়ে।

এদের মধ্যে তিন বছরের আয়লানের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে। সেই সময় অনেকেই বলেছিলেন, ছবিটি আয়লানের নয়, এটি বিপন্ন মানবতার মুখ থুবড়ে পড়ার প্রতীক।

আয়লানের ছবি এখন হয়তো অনেকের কাছে ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বছর পর ফের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবি সামনে এল। এবার এক বাবা ও তার কন্যা শিশুর মৃত্যুর ছবি আলোড়ন তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ছবি ফের যেন তুলে ধরল কীভাবে শত শত মানুষের প্রাণ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে যুদ্ধের খেলায় মত্ত দেশগুলোর শরণার্থী সমস্যা। আরও একবার মনে করিয়ে দিল সিরিয়ান শিশু আয়লান কুর্দির নির্মম পরিণতির কথা।

ছবিটি হৃদয় বিদারক, সীমান্ত পারাপারে বিপদের আরেক জাগ্রত উদাহরণ, বিশেষত যখন মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এটি সীমান্তে সংকটের বাস্তব চিত্র যা প্রায়ই পরিসংখ্যান এবং বিচ্ছিন্ন নীতির বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকে। খবর: সিএনএন।

নিহতরা হলেন, এল সালভাদোরের নাগরিক সাল্টোর মার্টিনেজ এবং তার মেয়ে, এঞ্জি ভ্যালেরিয়া। তারা রোববার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার চেষ্টাকালে মেক্সিকো সীমান্তের রিও গ্র্যান্ডে নদীর স্রোতের মধ্যে ডুবে যায়।

নিহত বাবা ও মেয়ের ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, মেক্সিকোর সাথে মার্কিন সীমান্তের অংশে রিও গ্র্যান্ডে নদীর পানিতে বাবা ও তার কন্যা মুখোমুখি হয়ে পড়ে আছে।

কয়েক মাস ধরে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ অভিবাসীদের ব্যাপারে মার্কিন কঠোর নীতির ফলে আরও বিপজ্জনক এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।