বিয়েতে নারাজ বাবার কাণ্ড!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

টিবিটি সারাবিশ্বঃদলিত যুবককে বিয়ে করায় দিনদুপুরে রাস্তায় মেয়ে ও জামাইকে কাস্তের আঘাতে রক্তাক্ত করলেন শ্বশুর। বুধবার হায়দ্রাবাদের বানজারা পুলিশ স্টেশন এলাকার এররাগাড্ডায় এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক মনোহর চারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি একটি গয়নার দোকানের কর্মী। খবর: আনন্দবাজার।

পুলিশ জানাচ্ছে, সপ্তাহখানেক আগেই মন্দিরে গিয়ে দলিত যুবক বি সন্দ্বীপকে বিয়ে করেন মনোহর চারির মেয়ে মাধবী চারি। পাঁচ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

দলিত সম্প্রদায়ের যুবকের সাথে প্রেম, এরপর আবার বিয়ে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি মাধবীর বাবা-মা। এ জন্য মাধবী স্থানীয় থানায় বিষয়টি অবহিতও করেন। পুলিশ মাধবীর বাবা-মাকে থানায় ডেকে বুঝিয়ে শান্ত করেছিলেন।

এরপরেও এ বিয়ে মেনে নিতে না পারায় ভেতরে ভেতরে ক্ষিপ্ত ছিলেন মনোহর চারি। ফোনে মেয়ে ও জামাইকে ডেকে নিয়ে এসে কাস্তে হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের ওপর। শুরুতে কোপের আঘাতে আহত হয়ে জামাই সন্দ্বীপ কোনভাবে পালিয়ে বাঁচলেও মেয়ে মাধবীকে একের পর এক হাতে, ঘাড়ে ও কপালে আঘাত করে যান মনোহর। এতে মেয়ে মাধবীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, এ বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়েছেন বলে বুধবার সকালে মাধবীকে ফোন করেন মনোহর চারি। সেইসাথে জামাই সন্দ্বীপকে নিয়ে দেখাও করতে বলেন। তা শুনে মাধবী স্বামী সন্দ্বীপকে নিয়ে স্কুটিবাইকে করে এররাগাড্ডায় গোকুল থিয়েটারের সামনে হাজির হয়। তারা বাইক থেকে নামতেই সেখানে উপস্থিত থাকা শশুর মনোহর ব্যাগ থেকে কাস্তে বের করে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

প্রথম কোপে আহত হয়ে জামাই সন্দ্বীপ কোনমতে পালিয়ে বাঁচলেও রক্ষা পায়নি মেয়ে মাধবী। এসময় ‘নান্না (বাবা) আমাকে মেরো না, আমাকে মেরো না’, বলে রাস্তায় পড়ে আর্তনাদ করতে থাকেন মাধবী। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হননি মদ্যপ অবস্থায় থাকা মনোহর। পরে পথচারীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যান তিনি।

এদিকে শ্যালকের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে মনোহরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ নম্বর ধারা (খুনের চেষ্টা) ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশের জেরায় মনোহর বলেছেন, ‘বিয়ে করার পরেই জানতে পারি দু’জনের সম্পর্কের কথা। আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না এই বিয়ে। আমি কাল খুনই করে ফেলতাম মেয়েকে।’

হায়দরাবাদ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিমাঞ্চল) এ আর শ্রীনিবাস বলেছেন, ‘মনোহর আমাদের জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়ের কথা শোনার পরেই গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বারবার সন্দ্বীপের বাড়িতে গিয়েছিলেন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু তাকে তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’