বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন শিক্ষক

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

অনি আতিকুর রহমান, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করবে ৯ সদস্য বিশিষ্ঠ যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কল্পে গঠিত ‘নারী নির্যাত অভিযোগ কমিটি’। তদন্তের জন্য টার্মস অব রেফারেন্স করে ইতোমধ্যে অভিযোগ কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

রবিবার বিকাল পাঁচটায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধ্যাপক আরফিনের দুটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। সেই সঙ্গে কয়েকটি পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের নিকট ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে। ফলে বিষয়টি আমলে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নাজমুন নাহার নামের এক শিক্ষার্থী ঘটনার বিচার দাবি করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বরাবর আবেদন করেন। নাহার আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন, ড. আরফিন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন।

একদিন তিনি ড. আরফিনকে তার কক্ষে এক শিক্ষিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর থেকে বিয়ের কথা বললে আরফিন তাকে এড়িয়ে চলে। ফলে তিনি এই প্রতারণার শিকার হয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। দাবির স্বপক্ষে ভুক্তভোগী কিছু অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছেন। তবে আবেদন পত্রে অভিযোগকারীর কোন ঠিকানা দেয়া ছিল না বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কমিটিকে অভিযোগের অনুপুঙ্খ তদন্ত করে ঘটনার সত্যাসত্য নির্ণয়, দোষী ব্যক্তি চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পরামর্শ প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। এই কমিটির আহবায়ক ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিম বানু। কমিটিকে যথাশীঘ্র প্রতিবেদন পেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন তদন্ত হবে কিনা তা অফিসিয়ালি আমি কিছু জানিনা। ফলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘অডিও ক্লিপের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এটি একটি স্পর্শকাতর ঘটনা। বাকি বিষয়গুলো কমিটি দেখবে।’