বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৪০ বছরের নারীকে দফায় দফায় ধর্ষণ করে বই বিক্রেতা!

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৫:১২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯
প্রতিকী ছবি

যশোর প্রতিনিধি যশোরে বই ব্যবসায়ী জহির বুক ডিপোর মালিক জহির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে এক নারীকে দফায় দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

শহরতলীর উপশহর এক নং সেক্টর এলাকায় (বিরামপুর স্কুলের সামনে) ভগ্নিপতির বাড়িতে থাকা মাগুরার এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযাগ করা হয়েছে।

এদিকে ধর্ষনের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তকর্তা এস আই নুরের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষককে আটক না করে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) কোতয়ালি থানায় করা অভিযোগে বলা হয়েছে, মাগুরা সদর উপজেলার সত্যপুর এলাকার এক নারী যশোরের উপশহর ১ নাম্বার সেক্টর বিরামপুর প্রাইমারী স্কুলের সামনে তার ভগ্নিপতির বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

এসময় ভগ্নিপতির নিকটজন উপশহর সারথী মিলের পাশের (বর্তমান ঘোপ সেন্ট্রাল রোড হলুদ মিলের সামনে) মৃত আবুল হোসেন খানের ছেলে জহির উদ্দিন খান (৪০) ওই বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে ওই নারীর সাথে কথা বার্তা বলা শুরু করে। একপর্যায়ে জহির উদ্দিন তাকে জানান তার স্ত্রী মৃত্যু পথযাত্রী।

তিনি বিয়ে করবেন বলে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখাতে থাকেন। তার কথা বিশ্বাস করে বিয়ে করতে রাজি হলে জহির তাকে জানান বিয়ে করে বিষয়টি গোপন রাখবে। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সামাজিক ভাবে তুলে নেয়া হবে।

বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৮ মাস আগে তার তিনজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে মিথ্যা হুজুর ও সাক্ষী সাজিয়ে বিয়ে করার অভিনয় করে। বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে বললে জহির জানান পরে কাগজ রেজিষ্ট্রি করবে। এরপর যশোরের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে দফায় দফায় ধর্ষণ করে।

এছাড়া ও নারী ভগ্নিপতির বাসায় অবস্থানের সময় বোন ভগ্নিপতির অনুপস্থিতিতে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর গত ৫ মে বিকেল সাড়ে ৫ টায় তার বোন ভগ্নিপতির অনুপস্থিতিতে ওই বাড়িতে চড়াও হয়ে শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে জহির খারাপ কাজ করার প্রস্তাব দেয় ওই নারীকে।

ওই নারী রাজি না হওয়ায় চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। গত ৭ আগস্ট যশোরের দড়াটানায় জহির ওই নারীকে জানান, তার দাবিকৃত টাকা দিলে বিয়ে করতে পারে।

অভিযোগে ওই নারী জানিয়েছেন মিথ্যা হুজুর ও স্বাক্ষী সাজিয়ে বিয়ে করার অভিনয় করেছে। তাকে দফায় দফায় ধর্ষণ করেছে। এখন এই ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

জহির উদ্দিনের নিকটজন ও ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, জহির উদ্দিন একজন ভন্ড প্রতারক। দিনের পর দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে।

এখন ধর্ষণের অভিযোগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে। আর ৫০ হাজার টাকা কাবিন প্রচার করছে। অথচ ভুয়া বিয়ে করার সময় সাজানো কাজী ও স্বাক্ষীর সামনে সে সাড়ে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে বলে জানিয়েছিল ভুক্তভোগীকে।

এদিকে ধর্ষনের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তকর্তা এস আই নুরের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ধর্ষনের অভিযুক্ত ধর্ষক জহির উদ্দিন খানকে আটক না করে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুর জানিয়েছেন অভিযুক্ত জহির উদ্দিন খান তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে দুুদিন সময় চেয়েছেন। ওই নারীর সাথে প্রতারণা ও তার দৈহিক সম্পর্ক করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দু’দিনের মধ্যে বাদী পক্ষের সাথে জহির উদ্দিনের সমঝোতা না করলে তাকে আটক করা হবে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।