বৃষ্টি এলেই যে স্কুলে বাজে ছুটির ঘণ্টা!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

বৃষ্টি এলেই ভেসে যায় ক্লাসরুম। টিনের চালা থেকে অনবরত পানি পড়তে থাকে। তাই বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা। বরগুনার আমতলীর বেগম নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃষ্টির দিনের চিত্র এটি।

বছরের পর বছর এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চললেও ভবন নির্মাণ বা সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিত সুলতানা এমনটাই জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালে আমতলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খোন্তাকাটা এলাকায় বেগম নূর জাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ওই সময় থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় একটি টিন শেড ঘর তুলে পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছিল। ২০১৭ সালের বন্যায় স্কুল ভবনটি ভেঙে যায়। ওই সময় আবার স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় পুনরায় টিনের ছাপরা ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ছাপরা ঘরেই গত তিন বছর ধরে পাঠদান চলছে। ছাপরা ঘরটির অবস্থাও এখন জীর্ণশীর্ণ।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টি এলেই স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণি কক্ষ তলিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে স্কুল ছুটি দিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো রাস্তাও নেই। হাটু সমান পানি-কাদা মাড়িয়ে স্কুলে ঢুকতে হয়। বিদ্যালয়ের দুরাবস্থার কথা আমতলী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এর সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।

রবিবার (১৮ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভিতরে পানিতে থই থই করছে। ভবনটির চারপাশে পানি। চেয়ার টেবিলগুলো পানির মধ্যেই রাখা। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কোন পরিবেশ নেই।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘বৃষ্টি এলেই বিদ্যালয়ের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ তলিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ঢোকার রাস্তা নেই। হাটু সমান পানি ডিঙ্গিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয়। দ্রুত ভবন নির্মাণসহ বিদ্যালয়ের সব সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই ছাপরা ঘরে পাঠদান করাতে হচ্ছে। বৃষ্টি এলেই পানিতে বিদ্যালয়ের চারপাশ ও শ্রেণিকক্ষ তলিয়ে যায়। ক্লাস করানোর মত কোন পরিবেশ থাকে না। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। দ্রুত স্কুল ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে আমতলীর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ একান্তই প্রয়োজন। স্কুলটিকে পাঠদানের উপযোগী করার লক্ষ্যে বরাদ্দ চেয়ে অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।’