বাহুবলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছেন ইউএনও জসীম উদ্দিন

বৃহৎ শিক্ষা সমাবেশে জলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মোঃ মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হাওর ও পাহাড় বেষ্টিত জেলার বাহুবল উপজেলা শিক্ষায় পিছিয়ে ছিল। বাহুবলে যোগদান করেই ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিন শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর দেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সার্বক্ষণিক এ চিন্তায় থাকেন তিনি। যার ফলে ধীরে ধীরে কাজ হচ্ছে। তিনি নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব কর্তব্য বিষয় শিরোনাম দিয়ে ‘শিক্ষা সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়।

২৮ জানুয়ারি সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারবৃন্দ, এসএমসির সভাপতি, পিটিএর সভাপতি, শিক্ষার্থী অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ।

বাহুবলে সর্বকালের বৃহৎ এ শিক্ষা সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ।

ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সিএ কনক দেব মিঠুর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) ফজলুল জাহিদ পাভেল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা সহকারী(ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন- পিআইও আশীষ কর্মকার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত, প্রধান শিক্ষক শহিদুল আলম, বাহুল প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ আব্দুল মান্নান, মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি নুরুল ইসলাম নূর প্রমুখ।
Add Image
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন- সরকার সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সফলতা এসেছে। সারা বিশ্বের মানুষ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশংসা করছে।

তিনি বলেন, সরকার বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। বেতন লাগছে না। উপবৃত্তি প্রদান করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর একযোগে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। এরপর তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে সরকার। সরকার বৈশাখী ভাতাও দেয়, আবার নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতুও করছে।

তিনি বলেন- এসব করার পরও জেলার বিভিন্ন স্কুলে কিছু কিছু শিক্ষক স্কুলে সময়মত আসছেন। ঘন ঘন ছুটি নিয়ে থাকেন। অনেক সময় ছুটি ছাড়াই স্কুল ফাঁকি দিচ্ছেন। এ জেলায় এসব আর করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন- শিক্ষকরাই পারেন স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। মানসম্মত পাঠ দানের প্রতি গুরুত্ব দিতে তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাহুবলে শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিন। যার জন্য প্রশংসা করতে হয়।

এ সমাবেশে উপজেলার বালুছড়া স্কুলের উন্নয়নে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। এ টাকায় বালুছড়া স্কুল ভবনের উন্নয়ন করা হবে।

ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন- জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ স্যারের উৎসাহ উদ্দীপনা ও দিক নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক এ সমাবেশের আয়োজন। উপস্থিত সকলের যার যার অবস্থান থেকে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা, প্রস্তাবনা ও আমাদের দায়িত্বের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে এ ব্যাপারে সকলেই একমত।

সর্বশেষে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই যার যার অবস্থানে সকলেই আন্তরিক দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে শপথ বাক্য পাঠ করেন। সমাবেশের সফল আয়োজনে সহযোগীতার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।