চান্দিনায় বেতনের দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

কুমিল্লার চান্দিনায় বেতনের দাবীতে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরীর প্রধান ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌঁনে ১০টা পর্যন্ত ওই বিক্ষোভ করে তারা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জানা যায়- চান্দিনা পৌরসভাধীন বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ নামের একটি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত তারিখে বেতন না পেয়ে প্রতিবাদ করে। এসময় ওই ফ্যাক্টরীর কোন এক কর্মচারী ওই শ্রমিকের সাথে হাতাহাতি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে অন্তত ২ হাজার শ্রমিক।

শ্রমিক জিসান জানান- প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে আমাদের শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদান করার কথা। কিন্তু গত মাসেও ২ দফায় বেতন পরিশোধ করে মালিকপক্ষ। চলতি মাসে এসেও একই অবস্থা। আজ ১৩ তারিখ এখনও আমাদের বেতন পরিশোধ করেননি। আগামীকাল (বুধবার) থেকে সারা দেশে লকডাউন এবং রমজান শুরু। আমাদের পরিবারে এখনও বাজার খরচ করা হয়নি। এছাড়া আমাদের ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ না করে মাসের শেষে ওভার টাইম বাদ দিয়ে দেন। প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদী শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিমাসের।

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীর প্রধান ফটক বন্ধ করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। টানা প্রায় ৫ ঘন্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার পর চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাসমউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

এ ব্যাপারে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ এর পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান- ১২টার মধ্যে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা যথা সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারিনি। আজ (মঙ্গলবার) শ্রমিকদের বেতনের ৭০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছি। আগামী ১৫ তারিখ বাকি ৩০ শতাংশ বেতন পরিশোধ করে দিবো। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নিবাহী অফিসার (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ ও থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান- আমরা অনেক চেষ্টার পর উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শান্ত হয়ে ৭০ শতাংশ বেতন গ্রহণ করে ফিরে যাচ্ছে।