বেতন বৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা শিক্ষকদের অধিকার : ঢাবি উপাচার্য

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮
ফাইল ছবি

বেতন বৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা শিক্ষকদের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। এসডিজি অর্জন করতে হলে শিক্ষা পরিবারের কোনো অংশকে বঞ্চিত বা অবহেলিত রাখা যাবে না। এসডিজি অর্জন করতে হলে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষকদের ভাষা শিক্ষকদের মতো হতে হবে। প্রাপ্তির জন্য যৌক্তিকভাবে দাবি উপস্থাপন করতে হবে। শুধু ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বা বৈশাখী ভাতাই নয়, আরও অনেক কিছু রয়েছে জাতীয় শিক্ষা নীতিতে। এটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকদের সব দাবি পূরণ হবে।

সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতাসহ জাতীয় শিক্ষানীতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নেতারা।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য ও সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এস এম বাহালুল মজনুন চুন্নু, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার। এতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কাশেম।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিশাল বৈষম্য রয়েছে। আন্দোলনের পর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে পে স্কেলের ব্যবস্থা করা হলেও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থেকে বেসরকারি শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে সরকার। এরপর প্রথম পর্বে মাধ্যমিক শিক্ষা অতি তাড়াতাড়ি সরকারিকরণ করতে হবে।

ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে এবং শিক্ষকদের কল্যাণের জন্য আন্দোলন করছি। গত দুই বছরে অনেক আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মানা হয়নি। দাবি আদায়ে আগামীতেও আমরা আন্দোলন করব।

অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং ২০১০ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকদের আর কোনো দাবি থাকবে না। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা আশা করি শিক্ষকদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আবার সরকার গঠন করলে ইউনস্কো ঘোষিত জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ আগামী বাজেটে বরাদ্দ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কাউসার আলী শেখের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রনজিত কুমার সাহা, সহসভাপতি বজলুর রহমান মিয়া, আলী আজগর হাওলাদার, কেন্দ্রীয় সদস্য জামিল মো: সেলিম প্রমুখ।