বেনাপোল দিয়ে ৫ দিনে ভারত গেছেন ২৭ হাজার বাংলাদেশি

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮

ঈদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ২৭ হাজার বাংলাদেশি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে গেছেন। ঈদের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, চিকিৎসা, ব্যবসা, কেনাকাটা ও বেড়ানোর উদ্দেশে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

হাইকমিশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঈদ প্যাকেজে অসংখ্য বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। এতে ঈদের ছুটির সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার- এই পাঁচ দিনে প্রায় ২৭ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেছেন।

অবশ্য ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে টানা ৬-৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের যেতে হয়েছে গন্তব্যে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশনে ও বেনাপোল চেকপোস্টের সোনালী ব্যাংক বুথে জনবল বৃদ্ধি না করায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভ্রমণ ট্যাক্স কাটতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার (এসি-কাস্টম) উত্তম চাকমা জানান, যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভারতে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য ঈদের ছুটির মধ্যেও চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে জনবল বাড়িয়ে কাজ চলছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. মাসুম কাজী জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কোনো সমস্যা নেই। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তাদের দুর্ভোগের কথা মাথায় নিয়ে ১৬টি ডেস্কে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।

অবশ্য ইমিগ্রেশন পুলিশের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাস্টমস প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে ভারত যাতয়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানিসহ তাদের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের নাম করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আইয়ুব হোসেন নামে এক পাসপোর্ট যাত্রী অভিযোগ করেন, ‘আমাদের পাসপোর্টে আমরা নিজেরা কাজ করব, কিন্তু টার্মিনালের বারান্দায় পুলিশ আমাদের পাসপোর্টের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে জোর করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’

বেনাপোল স্থল বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, ‘বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ইমিগ্রেশন পুলিশের সিপাহীরা পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নানাভাবে নাজেহাল করে থাকে। আমরা ওসি সাহেবের কাছে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্টের ওসি বলেন, ‘এবার ঈদে মানুষের ভারত ভ্রমণের চাপ অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। যাত্রীদের যাতে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য ইমিগ্রেশন দ্রুত কাজ করছে।’ ইমিগ্রেশন পুলিশের পাসপোর্ট দালালির বিষয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা বললে তিনি জানান, ইমিগ্রেশনের এরিয়ার বাইরে গিয়ে যদি কোনো পুলিশ সদস্য পাসপোর্ট দালালি বা যাত্রীদের হয়রানি করে, তাহলে এর দায়ভার তার নয়।