বেশী দামে নিম্নমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করায় জরিমানা, ধর্মঘট নাটক ঔষধের দোকানদারদের

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:০৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০
ছবি: টিবিটি

আব্দুল হামিদ খান, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় ঔষধের দোকানে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্য বিধি। হরহামেশাই নিম্নমানের মাস্কসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে ইচ্ছামত। এসব অভিযোগে সোমবার বিকালে ভ্রাম্যমান আদালত শহরের কয়েকটি ঔষধের দোকানে অভিযান চালিয়ে মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে ভ্রাম্যমান আদালতে এই জরিমানা করার প্রতিবাদে ঔষধের দোকানদাররা আকস্মিক ধর্মঘট আহবান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি না মানা ও মাস্কসহ নিম্নমানের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বেশী দামে বিক্রির অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার শহরের ৫টি ঔষধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। এনডিসি সাজ্জাত হোসেনের পরিচালনায় এ অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার খাদিমুল হাসান, ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, ম্যাজিস্ট্রেট বায়েজিদ বিন আকন্দ ও ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ্ত রায় দীপন।

এসময় ওইসব ৫টি দোকানে মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এনডিসি(নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) ম্যাজিষ্ট্রেট সাজ্জাত হোসেন জানান, করোনাকালে বিভিন্ন ঔষধের দোকানে স্বাস্থ্য বিধি না মানা, মাস্ক না পড়া, নিম্নমানের মাস্কসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ইচ্ছামত বেশী দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে শহরের ৫টি দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় স্বাস্থ্য বিধি না মানাসহ কম-বেশী অনেক দোকানেই নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় এবং সে কারণে সহনীয় পর্যায়ে জরিমানা করে তাদেরকে সতর্ক করা হয়। এসময় বেশি অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় শহরের ইন্দারা মোড়ের তারেক সার্জিক্যাল নামক ঔষধের দোকানে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এনডিসি বলেন, ওই দোকানদার নিজে এবং তার দোকানের কোন কর্মচারির মুখে এসময় মাস্ক ছিল না। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বও বজায় ছিল না। ওই দোকানে নি¤œমানের মাস্ক বেশী দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। দোকানের অনেক পণ্যের কোন চালানও দেখাতে পারেনি দোকানদার। বিক্রিত পণ্যেরও কোন রশিদ দিচ্ছেন না। কিন্তু অভিযানের সময়ই দোকানের মালিক আনসার আলী ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটকে হম্বিতম্বি করে ধর্মঘট করার হুমকি দেন। পরে শুনেছি, ভ্রাম্যমান আদালত শেষ হওয়ার পর পরই তিনি সবাইকে ভুল বুঝিয়ে অনেক দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এদিকে ধর্মঘটের ৩০ মিনিট পরই চেম্বার নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে ওই ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন ঔষধের দোকানদাররা।

পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী বলেন, এই করোনাকালে ঔষধের দোকানে ধর্মঘট করা অমানবিক। তাই তারা দোকানদারদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে বলেন এবং তারা এক ঘন্টা পরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল-সে বিষয় নিয়ে ঔষধ ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সঙ্গে পরে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য এই আনসার আলী এক সময় দীর্ঘদিন পাবনা শহরে ফেরি করে ঔষধ বিক্রি করতো। তার গ্রামের বাড়ি হেমায়েতপুর থেকে একটি সাইকেল নিয়ে অতি গরিবানা হালে চলাফেরা করতো। তখন ছিল তার ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়‘ অবস্থা। এমতাবস্থায় এরশাদ পিরিয়ডে হাসপাতালের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের ম্যানেজ করে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ঔষধ সাপ্লাইয়ের সাথে ভিড়ে যান। এসময়ই তিনি আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকেন। নকল-ভেজাল ঔষধ দিয়ে, আবার কখনো ঔষুধ ছাড়াই বিল-ভাউচার করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লুটে নেন।

এসময় পাবনা মানসিক হাসপাতালের আলোচিত ব্যাপক ঔষধ কেলেঙ্কারির হোতা হিসেবে তার নাম উঠে আসে। জড়িয়ে পড়েন মামলা-মোকাদ্দমায়। দীর্ঘদিন পালিয়েও বেড়ান। এরপরই দুর্নীতির টাকায় মাঝ শহরে তিনি এসব ঔষুধের দোকান কিনে শুরু করেন ব্যবসা। আর এমন প্রক্রিয়ায়ই তার দুর্নীতির সমুদয় কালো টাকা সাদা করে ফেলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, পাবনা শহরে এখনও কয়েকজন সিন্ডিকেট করে ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষুধ বিক্রি করেন এবং বেশি দামেও যে কয়জন ঔষুধ বিক্রি করেন তার একজন এই আনসার আলী। পাবনার সচেতন মহল সিন্ডিকেটধারী এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর হাতে দমন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।