বেড়াতে যাওয়ার জন্যে চার শিক্ষার্থীর কাণ্ড

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

নিখোঁজ হওয়া কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী পার্বত্য রাঙামাটিতে উদ্ধার হয়েছে।

উদ্ধার হওয়ার চার শিক্ষার্থী নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব পুলিশকে জানায়, বাড়িতে বললে বেড়াতে যেতে দিবে না। তাই না বলেই রাঙামাটিতে বেড়াতে চলে যায় তারা। তাদের সাথে আর কেউ ছিল না।

সোমবার দুপুরে নিখোঁজ কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী পার্বত্য রাঙামাটি সদরের রিজার্ভ বাজার এলাকার হোটেল রাজু নামে এক আবাসিক হোটেলে উদ্ধার হওয়ার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো, কক্সবাজার পৌর শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মৌলভী জহির আহমদের ছেলে সাইয়েদ নকীব, বাস টার্মিনাল এলাকার আকতার কামাল চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার কামাল সাকিব, একই এলাকার ফয়েজুল ইসলামের ছেলে শাফিন নূর ইসলাম ও বাজারঘাটা এলাকার অ্যাডভোকেট আব্দুল আমিনের ছেলে এইচএ গালিব উদ্দিন।

তারা সবাই কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে এ চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, রোববার সকালে ওই চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট ও স্কুলের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে না আসায় রাতে শহরে মাইকিং করা হয়। পরে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ চার শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সোমবার সকালে থানায় জিডি করে।

তিনি আরো বলেন, এরপর বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই চার শিক্ষার্থী হোটেল রাজুতে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হই। সংখ্যায় তারা চারজন হলেও সাকিব নামে এক শিক্ষার্থীর নামে রুম বুকিং করা হয়। রাঙামাটি সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ চলছে।

রাঙামাটি পুলিশের বরাত দিয়ে ওসি আজম বলেন, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা স্বেচ্ছায় চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি এলাকায় বেড়াতে গেছে। তাদের সঙ্গে ফুটবলসহ খেলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে।

নকীবের বাবা জহির আহমদ বলেন, নকীবের সঙ্গে রোববার সর্বশেষ সকাল ১১টায় মোবাইলে কথা হয়। প্রাইভেটের টাকা দেয়ার জন্য ৬০০ টাকাও নিয়েছিল সে। দুপুর ১২টায় স্কুল থাকলেও সে স্কুলে যায়নি বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তার মতো আরও তিন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি এবং রহস্যজনকভাবে তারাও নিখোঁজ থাকে।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম বলেন, রোববার নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব কেউ স্কুলে আসেনি। বিকালে তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। রাত অবধি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও না পেয়ে সোমবার সকালে সবাই মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হই।

গালিবের বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল আমিন বলেন, বড় ভয়ে ছিলাম। কারণ চারপাশে প্রতিদিন অপহরণসহ নানা ভয়ানক খবরের জন্ম হচ্ছে। এ রকম কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি কিনা, এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্নতায় সময় পার করেছি। সবাইকে অক্ষত অবস্থায় এক সঙ্গে রাঙামাটিতে পাওয়া গেছে এটাই শুকরিয়া। এমন ঘটনার মুখোমুখি যেন অন্য অভিভাবককে না হতে হয়, সেজন্য সন্তানদের প্রতি আরো নজর দিতে সব বাবা-মাকে অনুরোধ জানান তিনি।