বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১ | আপডেট: ১:১৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে নৌ-মহড়া। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ছেই। এ উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে ওমান উপসাগরে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

আজ শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আরব টাইমস।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার নৌ-মহড়ার অংশ হিসেবে ইরান ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে সমুদ্রের স্থল ইউনিট ও জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করার ভিডিওচিত্র দেখানো হয়েছে। তবে সেগুলোর পরিসর বা সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ থেকে এসব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। পাশাপাশি ইরানের সমুদ্র উপকূল থেকেও ছোঁড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র।

এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে ও মহড়া এলাকায় অবস্থিত নকল লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস মাকরান’। গতকাল ১৪ জানুয়ারি নিজেদের তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ বিশ্বকে দেখায় তেহরান। ছবি: রয়টার্স

ওমান সাগরের জলরাশির বিশাল এলাকায় গতকাল (বুধবার) দুইদিনব্যাপী এ মহড়া শুরু হয় এবং আজ শেষ দিনে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হলো। এবারের মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে একতেদার-ই-দারিয়া বা নৌ শক্তি-৯৯।

মহড়ার মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হামজাহ আলী কাভিয়ানি বলেন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইরানের উঁচু পর্যায়ের সক্ষমতা রয়েছে। ইরানি নৌবাহিনীর হাতে বিভিন্ন পাল্লার বিপুল পরিমাণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র থাকায় নৌযুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরানি নৌবাহিনী কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

ইরানের এ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, এবারের মহড়ায় ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র ও সিস্টেমের কথা গোপন রাখা হয়েছে, এখনো তা প্রকাশ করা হয় নি। অ্যাডমিরাল কাভিয়ানি বলেন, শত্রুদের জানা উচিত যে, তারা যদি ইরানের পানিসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে ইরানি সেনারা উপকূল ও সমুদ্র থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদেরকে জবাব দেবে।

গত জুলাইয়ে তেহরান প্রায় ২৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছিল।

সম্প্রতি, ওই অঞ্চলে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে তেহরান। গত শনিবার দেশটির আধাসামরিক বিপ্লব রক্ষী বাহিনী (রেভুলেশনারি গার্ড) আরব সাগরে একটি নৌ-মহড়া চালায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে গোটা দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকা জুড়ে একটি বিশাল ড্রোন মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয় এবং উপসাগরীয় দেশটির ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পরমাণু চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিধর দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে রাজি হয়েছিল। ট্রাম্প নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কথাও সব সময় বলে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তেহরান ধীরে ধীরে চুক্তি থেকে সরে আসতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা দেশ দুটিকে গত বছরের শুরুতে প্রায় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।