পহেলা বৈশাখে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১:৪২:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯
ছবি : প্রতীকী

চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কিশোরী। রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরের ঘুরার সময় তাকে প্রেমিক ও তার বন্ধু ধর্ষণ করে বলে অভিযোগউঠেছে ।

আজ রবিবার পহেলা বৈশাখ বন্ধুদের সাথে চট্টগ্রাম শহরের ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর কিশোরীর পরিবার।

অপর দিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঐ কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। অদ্য রাত পৌনে ১০টায় এই কিশোরী অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানান, ওই কিশোরীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। এখন সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষিতা কিশোরী ও প্রতারক প্রেমিক রিপন পটিয়ার বিসিক শিল্প এলাকার আরেফিন টেক্সটাইলের কর্মী। একইসঙ্গে একই টেক্সটাইলে কাজ করার সূত্র ধরে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

নববর্ষ উদ্‌যাপন করতে ঐ কিশোরীকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারক রিপন। রোববার সকালে কিশোরীকে নিয়ে রিপন পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসে। রিপন শহরে এক বন্ধুর বাসায় কিশোরীকে নিয়ে যায়।

এই কিশোরী এর আগে কখনো চট্টগ্রাম আসেনি। তাই শহরের ঠিক কোন স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটি সে জানাতে পারেনি। চট্টগ্রাম নগরীর ঐ বাসায় আগে থেকেই ধর্ষণের পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখে রিপন ও তার বন্ধু। কিশোরীকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে দুই পিশাচ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. আমির ওভার ফোনে দি বাংলাদেশ টুডে কে জানান, সন্ধ্যার সময় পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। রিপন ও তার বন্ধুরা তাকে ধর্ষণ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে চমেক হাসপাতালে ধর্ষিতার মা বলেন, ব্যাগ কেনার কথা বলে সকালে আমার মেয়ে ঘর থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় খবর পাই মেয়ের এই অবস্থা। দুই পিশাচ আমার মেয়ের সঙ্গে এমন করেছে।

এখন আমার মেয়ের অবস্থা ভালো না, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি আমার নাবালক মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অন্যায়ের বিচার চাই। ধর্ষিতার ভাই দিদার জানান, তার বোন পটিয়া আরেফিন টেক্সটাইল গার্মেন্টসে চাকরি করেন।

সহজ সরল বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের নামে ছলনা করে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই গ্রামের রিপন নামে এক প্রতারক। ধর্ষক রিপন (২৬) একজন গাড়ি চালকের সহকারী বলে জানিয়েছে দিদার।

তিনি বলেন, রবিবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখার নামে তার বোনকে শহরে নিয়ে রিপনের এক বন্ধুসহ তার বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বর্তমানে তার বোনের অবস্থা ভালো নয়।

প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার বোন একটু সুস্থ হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানায় কিশোরীর ভাই দিদার।

পটিয়া থানার ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, তারা মৌখিকভাবে ১ কিশোরী ধর্ষণের খবর পেয়ে থানা থেকে হাসপাতালে ফোর্স পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে ধর্ষকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানালেন ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন ফারুকী