বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় উত্তপ্ত হাটহাজারী, থানা ভাংচুরের অভিযোগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৭:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে ভোলায় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের একটি সমাবেশে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

পুলিশের গুলিবর্ষণ ও নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার সামনে মাদ্রাসার বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মুখে, হাটহাজারী বাজার, মেডিকেল গেট, ভূমি অফিসের সামনে, কলেজ গেট ও বাসস্টেশন এলাকার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

এ সময় বাসস্টেশন চত্বরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মাগরিবের নামাজ আদায় ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। হঠাৎ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় পৌঁছায় প্রায় ৩০টি রুটের হাজার হাজার যাত্রীসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে হাটহাজারী মডেল থানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মূল ফটক ও কাচের দরজা এবং জানালার কাচ ভাংচুর করে। এ সময় তারা পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে হামলা তথা যাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এ জন্য তারা বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করে, আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পুলিশ। এতে মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতরা হল-মো. রায়হান (২২), মো. আলাউদ্দিন (২১) ও মো. জাহেদুল ইসলাম (২০)।

রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের সহপাঠীরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সুপ্রিয়া চৌধুরী।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষক এবং হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।