ব্যাপক সফলতা স্বত্ত্বেও মোরেনো’কে বাদ দিয়ে স্পেন কোচের দায়িত্বে এনরিকে

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: 6:43 PM, November 19, 2019 | আপডেট: 6:43:PM, November 19, 2019

২০২০ ইউরো’র জন্য পুনরায় স্পেন জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন লুইস এনরিকে। গত জুনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এই ৪৯ বছর বয়সী কোচ।

এনরিকেকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরে দাঁড়াচ্ছেন লা রোহাদের বর্তমান কোচ রবার্তো মোরেনো। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এনরিকের সঙ্গে আগেই চুক্তি করেছিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।

গণমাধ্যমে আরও বলা হয়, আরএফইএফের সঙ্গে আলোচনা করে এনরিকে রাজি হয়েছেন ফের কোচ হিসেবে লা রোহাদের কোচ হওয়ার জন্য। এক-দুইদিনের মধ্যে নিয়োগের ব্যাপারটা তিনি ঘোষণা দিতে পারেন।

১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন; সেখানেই এনরিকে ফেরার ব্যাপারটি নিশ্চিত করবেন বোর্ড প্রধান লুইস রুবিয়ালেয়াস- জানিয়েছে তারা। দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক পাঁচ মাস পর তাই স্পেনের হটসিটে ফিরতে পারেন সাবেক বার্সেলোনা কোচ।

এনরিকের বদলে আগামী গ্রীষ্মে ইউরো পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রোমা, সেল্টা ভিগো, বার্সেলোনার মত জাতীয় দলেও তারই সহকারী রবার্তো মরেনোকে। সেপ্টেম্বরে মরেনো বলেছিলেন, এনরিকে ফিরতে চাইলে সরে দাঁড়াবেন তিনি। কিন্তু সবসময়ই ফেডারেশন থেকে এ ব্যাপারে সততা এবং স্বচ্ছতা চাইতেন মরেনো। সেটা হয়তো পাননি তিনি। মাল্টার বিপক্ষে গত সপ্তাহে ম্যাচের পর রুবিয়ালেস বলেছিলেন, ইউরো ২০২০-এ মরেনোই স্পেনের কোচ থাকছেন কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন তিনি।

বন্ধু এনরিকের জন্য তাই দায়িত্ব ছাড়া নয়, বোর্ডের এই ‘লুকোচুরি’-তেই হয়তো হতাশ মরেনো। রোমানিয়াকে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ৫-০ গোলে হারানোর পর অশ্রুসজল নয়নে স্প্যানিশ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান মরেনো। সংবাদ সম্মেলনেও আসেননি তিনি বা স্পেনের কোনো ফুটবলার।এনরিকের ফেরার খবরটি হয়তো আগে থেকেই জানতেন তিনি। এনরিকের অনুপস্থিতিতে মরেনোর অধীনে স্পেনের রেকর্ডটাও দুর্দান্ত। ৯ ম্যাচে রামোস-পিকেরা হারেননি একবারও (৭ জয়, ২ ড্র)। গোল করেছেন ২৯টি, হজম করেছেন মাত্র ৪টি।

রাশিয়া বিশ্বকাপের পর ফার্নান্দো হিয়েরোর বদলে এনরিকের ওপরই আস্থার রেখেছিল স্পেন। দায়িত্ব নেওয়ার বছরখানেক পর থেকেই স্পেনের ডাগআউটেও অনিয়মিত ছিলেন এনরিকে। রুবিয়ালেস জানিয়েছেন; নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পারায় নিজেই সরে গেছেন তিনি, ‘লুইসের পেশাদারিত্ব দুর্দান্ত। পারবারিক সমস্যার কারণে সে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পারেনি। ফুটবলের চেয়েও পরিবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

“আমরা তার এই সিদ্ধান্ত এবং তার পেশাদারিত্বকে সম্মান জানাই। গত বছরখানেক তার অধীনে দারুণ কিছু জয়ও পেয়েছি আমরা। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য জানা যায়, অসুস্থ কন্যা ৯ বছর বয়সী ছোট্ট জানা এনরিকের পাশে থাকতেই স্পেনের ডাগআউটে অনিয়মিত ছিলেন তিনি। এ বছরের আগস্টে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন জানা।

গত বছরের ৯ জুলাই দায়িত্ব পাওয়ার পর ইউয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপপর্বে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে অভিষেক হয়েছিল এনরিকের। পারিবারিক সমস্যার জন্যই ২০২০ ইউরো বাছাইপর্বে মাল্টা, ফারো আইল্যান্ড এবং সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন হেডকোচ হওয়ার আগে ডাগআউটে এনরিকের অনুপস্থিতিতে এই তিন ম্যাচে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোরেনো।