ব্যারিস্টার কায়সারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

প্রকাশিত: 8:39 PM, December 5, 2019 | আপডেট: 8:39:PM, December 5, 2019
বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ফাইল ছবি

জুনিয়র আইনজীবীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। আদালতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। কায়সার কামালকে যেকোন দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

কায়সার কামাল বিএনপির আইন সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্ববায়ক। কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের অন্যতম তিনি।

গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকার পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। রাতেই তার আইনজীবী আতিকুর রহমান স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ এনে কলাবাগান থানায় কায়সারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নং-০৩। মামলাটির তদন্ত করছেন কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগান থানার পুলিশ তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ^াসের আদালতে হাজির করেন। পুলিশ তার তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আর কায়সারের পক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার এজাহারে আতিকুর গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তার স্ত্রীর সঙ্গে কায়সারের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। বারবার বলার পরও আতিকুরের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ না করে পরকীয়া চালিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

এজাহারে আতিকুর বলেছেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। রাজনীতির সুবাদে কায়সার কামালের সাথে তার পরিচয়। বেগম খালেদা জিয়ার মামলাসহ অন্য সকল রাজনৈতিক মামলায় কায়সারকে তিনি সহযোগিতা করতেন। এর সুবাদে কায়সারের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।

আতিকুর বলেন, ‘২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া আটকের কয়েকদিন আগে আসামি আমার বাসায় আশ্রয় চান। আমি সরল বিশ্বাসে আমার তাকে আমার বাসায় আশ্রয় দেই। তিনি প্রায় এক মাস আমার বাসায় থাকেন। সেই সুবাদে আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আমার স্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান হওয়ার কারণে কায়সারের দ্বিতীয় স্ত্রী গর্ভবতী হলে আমার স্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকের অ্যপয়নমেন্ট নিয়ে দিত।…’

‘কায়সার কামাল রাজনৈতিক সম্পর্কের অপব্যবহার করে আমার মন ও সুনামের ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ফেলে আমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।…এ কারণে আমি অনেক দিন ধরে সন্দেহ করছিলাম এবং আমি, আমার শ^শুর-শাশুড়ি ও শ্যালক আমার স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করি।’

সবশেষ তিন সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার পথে কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডে স্ত্রীকে কায়সারের গাড়ি থেকে নামতে দেখেন উল্লেখ করে আতিকুর বলেন, ‘এর পরদিন সকালে আমার স্ত্রীর ব্যাগে আসামির চিকিৎসা সংক্রান্ত স্কয়ার হাসপাতালের একটি কাগজ পাই। এ বিষয়টি আমার শ^শুর-শাশুড়িকে জানালে তার আমার স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং আসামিকে (কায়সার) দুই সপ্তাহ আগে আমার শ^াশুড়ি ফোন করে এই পথ থেকে সরে যেতে বলেন। আসামিকে বোঝানোর পরেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি।’

‘বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল চারটা ১০ মিনিটে আমি সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বের হওয়ার সময়ে দেখতে পাই আসামির গাড়ি আমার সামনে দিয়ে বের হচ্ছে।…আসামির গাড়ি ফলো করতে করতে স্কয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত আসি। কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বিকাল পাঁচটা ১০ মিনিটে কলাবাগানের পান্থপথ শেলটেক টাওয়ারের সামনে দেখতে পাই তার স্ত্রী তার গাড়িতে উঠছে। ওই সময়ে আমি গাড়ি বন্ধ করে দৌড়ে গিয়ে তার (কায়সার) গাড়ির দরজা টান দিয়ে আসামিকে ধরি। আসামি দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে থাকেন।’

পরে স্থানীয় জনতা মিলে কায়সারের গাড়ি থামিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়েছে, ‘এসময় শেলটেক অফিসের নিরাপত্তাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। পরে উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশ ও জনতা কলাবাগান থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ হাতেনাতে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

আতিকুর এজাহারে বলেছেন, ‘এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারক ব্যক্তি…দেশে সর্বোচ্চ আদালতের আইন পেশায় থাকলে তা দেশের সার্বিক বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকির স্বরুপ।’

আতিকুর নিজে আইন পেশা, রাজনীতি এবং ব্যক্তি জীবনে নিজেকে সৎ রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে বলেছেন।