ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশির যাবজ্জীবন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৫:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক আইএস সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
শুক্রবার দেশটির পুরনো বেইলি আদালতে নাইমুর জাকারিয়া রহমান (২১) নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে এই সাজা ঘোষণা করা হয়।

গত জুলাই মাসে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত নাইমুরকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। নাইমুরের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে থেরেসা মে’র মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জানা যায়, নাইমুর উত্তর লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গোয়েন্দারা জাল বিস্তার করে গত বছরের ২৮ নভেম্বর তাকে আটক করেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অশালীন ছবি পাঠানোর সন্দেহে গত বছর অগাস্টে নাইমুরকে আটক করেছিল পুলিশ।

তখন তার মোবাইল ফোনে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পান কর্মকর্তারা। এরপর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভের সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তাদের একটি ছদ্মবেশী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন নাইমুর।

থেরেসা মেকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাইমুর গত নভেম্বরে হোয়াইট হলের আশপাশ ঘুরে দেখেন এবং বিস্ফোরক নিতে যুতসই মনে করে একটি ব্যাগ তিনি ছদ্মবেশি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেন।

২৮ নভেম্বর ওই পুলিশ কর্মকর্তা নকল বিস্ফোরক ভরে ওই ব্যাগ ও একটি জ্যাকেট নাইমুরকে দিয়ে বলেন, এখন তিনি এগিয়ে যেতে পারেন। কেনসিংটনের ওই জায়গা থেকে হাঁটা শুরু করার পরপরই নাইমুরকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

আদালতে শুনানির সময়ে জানানো হয়, মুসাদ্দিকুর রহমান (২৮) নামে নাইমুরের এক চাচা আইএস সদস্য। সে সিরিয়ায় থেকে নাইমুরের সঙ্গে যোগাযোগ করত। সেই মূলত নাইমুরকে ব্রিটেনে হামলা চালাতে প্ররোচিত করেছে। দুই বছর ধরে এ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো নাইমুর। তবে গত গ্রীষ্মে এক ড্রোন হামলায় তার সেই চাচা মারা যায়।