ব্রুনাইয়ের পথে হাঁটবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া?

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৪৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৯

ব্রুনাই সরকার নতুন ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক আইন করেছে, যেখানে বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা, সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্ক, ধর্ষণ এবং বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার মতো অপরাধের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোর মধ্যে এই দেশেই সর্বপ্রথম কঠোর শরিয়াহ আইন চালু হলো। এই আইনে সমকামিদের পাথর ছুড়ে মারার বিধান রাখা হয়েছে। এই ঘটনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়।

ব্রুনাইয়ে ওই আইন প্রবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশদুটির (মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া) সমকামিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদসংস্থা সিএনএন এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল তেলসমৃদ্ধ দেশ ব্রুনাইয়ে কঠোর শরীয়াহ আইন প্রবর্তিত হয়। এই আইনে ব্যাভিচার ও সমকামিতার জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চুরি ও এ সংক্রান্ত অপরাধে হাত কেটে দেয়ার সাজা রাখা হয়েছে নতুন এই আইনে।

ব্রুনাইয়ে এই কঠোর আইন চালুর পরিপ্রক্ষিতে পশ্চিমা বিশ্বসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা নিন্দা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার মাইকেল ব্যাচলেট একে ‘কঠোর আইন’ ও মানবাধিকার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, ব্রুনাইয়ের প্রতিবেশি দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। দেশ দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া তো জানায়নি বরং নিশ্চুপ রয়েছে। আর ব্রুনাইয়ের ঘটনায় দেশদুটির নেতাদের কোনোধরনের প্রতিক্রিয়াহীনতার বিষয়টি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এ অঞ্চলে রক্ষণশীল ইসলামের উত্থান এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘সেক্সুয়াল’ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে-তা নিয়ে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি সিএনএন। সাম্প্রতিক সময় এই অঞ্চলে রক্ষণশীল মুসলিম গোষ্ঠীগুলো অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশে পুরুষ সমকামিদের প্রকাশ্যে লজ্জা দেওয়া ও বেত্রাঘাতের নিয়ম চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি জাকার্তার একজন খ্রিষ্টান গভর্নরকে ব্লাশফেমির (ধর্মনিন্দা) দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মার্চ মাসে মালয়েশিয়ার পর্যটনমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশে কোনো পুরুষ সমকামি (গে) নেই।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সমকামি অধিকার সংক্রান্ত সংস্থার (মালয়েশিয়ান এলজিবিটি) থালিগা সুলাথিরেহ জানান, সমকামিতার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরী হচ্ছে সেই প্রেক্ষিতে এদের ওপর দমন পীড়ন বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, সমকামি মানুষদের মধ্যে ভীষণ ভয় কাজ করছে; আতঙ্কে রয়েছেন তারা।

তবে ব্রুনাইয়ে শরীয়াহ আইন চালুর পরে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য পায়নি সিএনএন।