বড়লেখায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গ্রামে গ্রামে লকডাউন

আব্দুর রব আব্দুর রব

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০ | আপডেট: ৪:২০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০
ছবি: টিবিটি

বড়লেখায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মঙ্গলবার থেকে অতি উৎসাহী কিছু গ্রামবাসী একের পর এক গ্রাম লকডাউন করছেন। এ পর্যন্ত উপজেলার ১২টি গ্রাম লকডাউন করার খবর পাওয়া গেছে। এসব গ্রামের প্রবেশপথগুলো বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব গ্রামের লোকজনকে কোথাও যেতে দেয়া হচ্ছে না। আবার অন্য এলাকার কাউকে গ্রামে প্রবেশ করতেও দেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ ছাড়াই অতি উৎসাহীদের এসব লকডাউনে বিড়ম্বনায় পড়ছেন প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারীরা।

অতি উৎসাহী কর্তৃক লকডাউন হওয়া গ্রামগুলো হচ্ছে-উপজেলার পাখিয়ালা, হিনাইনগর, উত্তর লঘাটি, ইটাউরী, দৌলতপুর, চান্দগ্রাম, তেলিগুল, ঘোলসা, রুকনপুর, পশ্চিম দক্ষিণভাগ, চিন্তাপুর।

এসব গ্রামের বাসিন্দারা জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন সরকারি নির্দেশনা মানাতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই এসব নির্দেশনা মানছেন না। ফলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে এলাকার বাসিন্দারা গ্রামগুলোর প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। কোথাও আবার রাস্তার প্রবেশপথে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

পাখিয়ালা এলাকার বাসিন্দা তাওহিদ সারোয়ার মান্না জানান, করোনা ভাইরাস রোধে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে অনেকেই প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করছেন। এতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের অবাধ চলাচল রোধে আমরা গ্রামের ভেতরের রাস্তা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। অবশ্য জরুরী প্রয়োজনে মানুষজন চলাচল করছেন।

হিনাইনগরের জুনেদ আহমদ জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আমরা স্বেচ্ছায় আমদের গ্রামের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। বাইরের লোকজন যাতে এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তবে জরুরী প্রয়োজনে কেউ প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ করতে পারবে।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, বিষয়টি তার জানা নয়। প্রশাসনিকভাবে কাউকে লকডাউনের নির্দেশ দেয়া হয়নি। কেউ লকডাউনের অনুমতিও নেয়নি। জরুরী প্রয়োজনে কোন এলাকা লকডাউন করার প্রয়োজন হলে প্রশসানই তা করবে। বড়লেখায় এখনও এরকম প্রয়োজন পড়েনি।