ভল্টে জায়গা নেই বলে খুচরা টাকা নেয় না ব্যাংকগুলো

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ২:৫৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

ভৈরবের ব্যাংকগুলোতে খুচরা টাকার নোট জমা না নেয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। বলতে গেলে ব্যাংকগুলোতে ২-৫-১০-২০ টাকার নোট অচল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে ২-৫-১০-২০ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে ব্যাংকগুলোতে গেলে ক্যাশ কাউন্টার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

অধিকাংশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যাংকের ভল্টের সিন্দুকে টাকা রাখার জায়গা নেই। তাই খুচরা টাকা মাঝেমধ্যে জমা নেয়া হয় না। ভল্টে টাকার বেশি চাপ থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেন তারা।

স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রতিদিনের বেচাকেনার ৫-১০-২০ টাকার নোটের ১০-২০ হাজারের বান্ডিল ব্যাংকে জমা দিতে গেলে টাকা রাখার জায়গা নেই বলে তাদের ফিরিয়ে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। ৫-১০ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে ব্যাংকে গেলে ক্যাশিয়ার রেগে যান। ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। অনেক অনুরোধ করেও টাকা জমা দেয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরবে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্য ট্রেজারি শাখা হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে সোনালী ব্যাংক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভৈরবের এই ব্যাংকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও খুচরা টাকা নিতে অনীহা ব্যাংকটির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস এবং শিল্প-বাণিজ্যসহ গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এসব গ্রাহকের প্রতি মাসে বিল হয় প্রায় ৫-৬ কোটি টাকা। যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি টেলিফোন গ্রাহকরা ব্যাংকে বিল পরিশোধ করেন। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন গ্রাহকদের মধ্যে অনেকে ৩-৪ হাজার টাকা ১০-২০ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে বিল পরিশোধ করতে গেলে টাকা জমা নেয় না ব্যাংক কর্মকর্তারা।

ভৈরবে পাদুকা শিল্প, বেকারি শিল্প, মশার কয়েল কারখানাসহ হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর লেনদেনের খুচরা লাখ লাখ টাকা আমদানি হয়। সেই খুচরা টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ ২০ টাকার নোটের ২ হাজার টাকার একটি বান্ডিল নিয়ে ভৈরবের রূপালী ব্যাংক শাখায় বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলে ক্যাশ কাউন্টার থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তাকে বলা হয়, ‘ব্যাংকে খুচরা টাকা রাখায় জায়গা নেই। খুচরা টাকা জমা নেয়া হবে না।’

আ. রশিদ নামের এক ব্যক্তি নিজের অফিসের বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার টাকার ১০ টাকা নোটের একটি বান্ডিল নিয়ে স্থানীয় এবি ব্যাংকে গেলে ক্যাশিয়ার বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে ৫-১০ টাকার নোট রাখা হয় না। আপনি আসতে পারেন’।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমিনুল হক ১০ টাকার নোটের ১০ হাজারের একটি বান্ডিল নিয়ে ব্যাংক এশিয়ায় গেলে তার টাকা জমা নেয়া হয়নি। তাকে ব্যাংক থেকে বলা হয়, ‘ছোট নোট বড় করে নিয়ে আসেন’।

বিষয়টি স্বীকার করে ভৈরব চেম্বারের সভাপতি আলহাজ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ব্যবসায়ীরা খুচরা নোট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকে খুচরা নোট জমা দিতে না পেরে অফিসের সিন্দুকে রাখছেন। এ ব্যাপারে চেম্বার থেকে ভৈরবের সকল ব্যাংক ম্যানেজারকে ডেকে সমস্যা সমাধানে একটি সভা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যা চলছে। এর সমাধান হওয়া জরুরি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংক ভৈরব শাখার ম্যানেজার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ব্যাংকের ভল্টের সিন্দুকগুলো টাকায় ভর্তি। এসব টাকা আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকেও জমা দিয়ে কমাতে পারছি না। তাই খুচরা নোট জমা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পূবালী ব্যাংকের ভৈরব শাখার ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ব্যাংকে খুচরা নোট রাখার সিন্দুক নেই। এমনিতেই অনেক টাকা ব্যাংকে আছে। এসব খুচরা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকও জমা নিচ্ছে না। গ্রাহকরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খুচরা নোট জমা দিতে আসেন। কিন্তু অনেক গ্রাহক খুচরা টাকা নিতে চান না। ফলে খুচরা নোট জমা নিতে পারছি না।

একই কথা বললেন ঢাকা ব্যাংকের ভৈরব শাখার ম্যানেজার সেলিম আহমেদ মিলন এবং ব্যাংক এশিয়ার ভৈরব শাখার ম্যানেজার মিঠু কুমার সাহা। তারা বলেন, খুচরা টাকা জমা নেয়া হয় না।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ কেন্দ্রের ১৬২৩৬ নম্বরে ফোন দিলে এক নারী কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে টাকা জমা রাখার সীমাবদ্ধতা আছে। এরপরও কিছু কিছু ব্যাংকের কোটি কোটি খুচরা টাকা প্রতিদিন জমা নেয়া হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি আর বেশি কিছুই বলতে পারব না।