ভারতের প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মিশনে মমতা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১ | আপডেট: ৯:০৪:অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

ভারতের প্রধানন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী-বিরোধী ‘মুখ’ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চায় ভার্চুয়ালবাসীদের অনেকেই। সোমবার থেকেই টুইটারে ট্রেন্ড হয়েছে, ‘বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’ হ্যাশট্যাগ প্রচার। দিল্লির ক্ষমতা দখলের জন্য ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে টার্গেট করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে ভোটের তিন বছর আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী মোদিবিরোধী সর্বভারতীয় মহাজোটের যাত্রা শুরু হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) দিল্লিতে ১৫টি দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে যাচ্ছে।

বৈঠকটি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ারের বাসভবনে হলেও মুখ্য ভূমিকায় থাকছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। কেননা, মহাজোটের উদ্যোগী এসব দলের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে শারদের সঙ্গে যশবন্ত সিনহারও সই রয়েছে। যশবন্ত এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, যাকে বিরোধীমঞ্চ গঠনে মমতার দূত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১৫ দলীয় এই বিজেপি ও সরকারবিরোধী জোট ‘রাষ্ট্রমঞ্চ’ নামে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। বৈঠকটিও ডাকা হয়েছে এই নামে। এর পেছনে রয়েছেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা যশবন্ত সিনহা। ২০১৮ সালে বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ‘রাষ্ট্রমঞ্চ’ নামেই একটি জোট গঠন করেছিলেন তিনি।

ভারতের বর্তমান প্রধান বিরোধী এবং সবচেয়ে প্রাচীন দল কংগ্রেস এই জোটে শরিক হিসেবে থাকলেও নেতৃত্ব পাচ্ছে না। অন্য দলগুলোর কার কী ভূমিকা এবং জোটের নাম ও সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে, বলছে দেশটির গণমাধ্যম।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতাকে হটিয়ে রাজ্যটির দখল নিতে মরিয়া ছিল কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপি। কিন্তু বিপুল ভোটের জয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গেরুয়া শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা।

গত ২ মে ঘোষিত ফলাফলে রাজ্যটিতে ২৯২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয়েছে ২১৫টিতে। অন্যদিকে বিজেপি জয় পেয়েছে মাত্র ৭৫ আসনে। দুটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। বাকিগুলো পেয়েছে অন্য দল।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটানা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। ২০১১ সালের নির্বাচনে বামদের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটায় তৃণমূল-কংগ্রেস জোট। প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।